জেলার খবর

অবরোধের আগে জমজমাট ইলিশ বাজার, কিছুটা স্বস্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
৬ বার সংবাদটি দেখেছে

মা ইলিশ সংরক্ষণে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা। প্রতিবছরের মতো এবারও অবরোধ শুরুর আগে পটুয়াখালী নিউমার্কেট মাছ বাজারে বেড়েছে ইলিশের আমদানি। সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে কিছুটা কমেছে দামও। ফলে দীর্ঘদিন পর ইলিশ কিনতে এসে স্বস্তির কথা জানাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।

সকালের আলো ফুটতেই পটুয়াখালী নিউমার্কেট মাছ বাজারে শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। বাজারের বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা দোকানে সারি সারি সাজানো ছিল রূপালি ইলিশ। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব আকারের ইলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বাজারে ভিড় করেছেন স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ীরাও।

বিক্রেতারা জানান, অবরোধ শুরুর আগে জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ ধরার কার্যক্রম বাড়িয়ে দেওয়ায় বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। কয়েক দিন আগের তুলনায় প্রতি কেজিতে কিছুটা দাম কমেছে। বিশেষ করে মাঝারি আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ক্রেতারা তুলনামূলক স্বস্তিতে মাছ কিনতে পারছেন।

বাজারে ইলিশ কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইলিশের দাম অনেক বেশি ছিল। এখন দাম কিছুটা কমেছে। তাই পরিবারের জন্য কয়েকটি মাছ কিনে নিচ্ছি। অবরোধ শুরু হলে আবার বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে না।”

আরেক ক্রেতার ভাষ্য, “ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং বাঙালির আবেগের অংশ। দাম কম থাকায় এখন অনেকেই সুযোগটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।”

মাছ বিক্রেতাদের দাবি, অবরোধ সামনে রেখে বাজারে ইলিশের চাহিদাও বেড়েছে। অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি মাছ কিনে সংরক্ষণ করছেন। তবে সরবরাহ বেশি থাকায় বাজারে এখনো দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। একজন বিক্রেতা বলেন, “গত কয়েক দিনের তুলনায় বাজারে মাছ বেশি আসছে। বড় আকারের ইলিশের পাশাপাশি মাঝারি সাইজের মাছও প্রচুর রয়েছে। ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি দেখা যাচ্ছে।”

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। এ সময়ে ইলিশ ডিম ছাড়ে। তাই প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং জেলেদেরও দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের মৎস্য খাতে দৃশ্যমান হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি তদারকি অব্যাহত থাকলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে তারা মনে করেন।

অবরোধ শুরুর প্রাক্কালে পটুয়াখালী নিউমার্কেট মাছ বাজারের চিত্র যেন এক ভিন্ন আবহের জন্ম দিয়েছে। ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে ইলিশ কিনে স্বস্তি পাচ্ছেন, আর বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন বাড়তি বেচাকেনা নিয়ে। তবে সবার দৃষ্টি এখন আসন্ন নিষেধাজ্ঞার দিকে, যার মূল লক্ষ্য দেশের অন্যতম মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ইলিশের টেকসই সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *