জেলার খবর

শেরপুরে কালোবাজারে সার বিক্রি অভিযোগে মামলায় ১৫ সার ডিলার জেল হাজতে

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১২ বার সংবাদটি দেখেছে

শেরপুরে সরকারি বরাদ্দের ১৪ কোটি টাকার বিভিন্ন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে সদর উপজেলার ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় ১৫ জনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই মামলার ১৬ জন আসামি হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালতে বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির তাদের মধ্যে একজনকে জামিন এবং বাকি ১৫ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, মামলার এজাহারভুক্ত ২০ জন আসামীর মধ্যে ইতিমধ্যে সবাই উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহ করে জামিন নেয়। এদের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে ১৬ জন নিন্ম আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত এদের মধ্যে একজনের জামিনের মেয়াদ থাকায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জামিন দেন এবং বাকি ১৫ জনের উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদেরকে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

জেল হাজতে যাওয়া সার ডিলাররা হলো- আসামিরা হলেন- সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।

গত ২২ জুলাই শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৪ জুন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ডিলারদের সার বিক্রির রেজিস্টার ও ক্যাশ মেমো জব্দ করে যাচাই-বাছাই করলে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।

অধিক মুনাফার আশায় ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের চার হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া সার (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ টন ডিএপি সার (মূল্য প্রায় এক কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ টন টিএসপি সার (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার সার কালোবাজারে বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে পিপি আব্দুল মান্নান বলেন, আসামিদের মধ্যে ১৫ জন উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করায় তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। এদের মধ্যে একজনের জামিনের সময় থাকায় তাকে জামিন দেয়। উল্লেখিত মামলার ২০ জন আসামি বিভিন্ন সময়ে আট সপ্তাহ করে জামিন মঞ্জুর করে নিয়ে আসেন উচ্চ আদালত থেকে। এদের মধ্যে আজ ১৬ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *