বরিশাল জেলা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ভয়াবহ নদীভাঙন, সরেজমিনে বিভাগীয় কমিশনার

প্রকাশিত :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৭ বার সংবাদটি দেখেছে

দেশের বানী | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাট। ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিও হুমকির মুখে পড়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা শোনেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চরগোপালপুর ইউনিয়নে গত তিন থেকে চার দিনে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির পাঁচটি, নীলগাজি বাড়ির আটটি, রাড়ি বাড়ির সাতটি, তালুকদার বাড়ির চারটি, বেপারী বাড়ির তিনটি, ধোপাবাড়ির পানির বরজসহ দুটি, মাধবপুর বাড়ির চারটি এবং গণি রাড়ি বাড়ির আটটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

একই সময়ে ঢোলের হাট বাজারের প্রায় ১৫ থেকে ৩০টি দোকানও নদীভাঙনের শিকার হয়ে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনবসতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল বারী মনির, পার্শ্ববর্তী আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দুই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এ এলাকায় প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে এসব জিও ব্যাগ নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এ এলাকায় কোনো ব্লক স্থাপন করা হয়নি বলেও জানান তারা।

বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, নদীভাঙন চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মূল্যবান সম্পদ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এ কাজে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নদীর পানি ও স্রোত কমে পরিস্থিতি শান্ত হলে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রয়েছে জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জাল সরবরাহ করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের পতিত জমিতে স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে তরমুজসহ উপযোগী ফসল চাষের আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার। জমি লিজ না দিয়ে স্থানীয়রা নিজেরা চাষাবাদ করলে তাদের আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিভাগীয় কমিশনার আশ্বস্ত করে বলেন, নদীভাঙনসহ স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন তাদের পাশে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতা ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত থাকবে।



মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *