জেলার খবর

নবীগঞ্জে জব্দ বালু বিক্রি, জরিমানা ৫০ হাজার

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৮ বার সংবাদটি দেখেছে

নবীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায় মাদক সম্রাট কাওসার আহমদ ও তার বাহিনীর অত্যাচারে অতীষ্ট হয়ে উঠেছেন সাধারন মানুষ। নানা অপকর্মের হোতা কাওসার এখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে ইতালী চলে গেছে। তার লোকজন নানা রকম অপকর্ম, মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড়ির এলাকায় গাছ চুরি ও পাহাড় টিলা কেটে লাল মাটি বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও নানা অপবাদ দিয়ে দিয়ে হেনস্থা করা হয়।

কাওসার চক্রের সদস্য সরকারী জায়গায় জব্দ কৃত বালু জোর করে বাঁশের বেড়া বা বেষ্টনী দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করছে। প্রশ্ন তাদের খুঁটির জোর কোথায়। কাওসারের ইয়াবা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাতাইহাল গ্রামের “অ” অধ্যাক্ষর যুক্ত নামে একটি ব্যক্তিকে কুপিয়ে পঙ্গু করা হয়েছে। সে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কাওসারে বিশাল বাহিনী রয়েছে যে প্রতিবাদ করবে তার উপর হামলা করা হবে। সে হচ্ছে ইয়াবার ডিলার।( উল্লেখ্য যে ঐ ব্যক্তির বক্তব্য ভিডিও আমাদের কাছে রের্কড করা সংরক্ষিত আছে) একাধিক মামলার আসামি মামলার আসামি আইন শৃংখলা বাহিনীর ভয়ে আত্বগোপনে দেশ ত্যাগ করেছে। দিনারপুর এলাকার ইয়াবা ব্যবসার ডিলার কাওসারের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক আইনে মামলা।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে কাওসার বাড়ি থেকে মাদক উদ্ধার করে। ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অফিসে একজন তালিকা ভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নবীগঞ্জ উপজেলার সাতাইহাল গ্রামের শাহ কাওসার আহমদ দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জের পাহাড়ি এলাকা দিনার পাহাড় টিলা কাটা ও অবৈধ বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের পানিউমদা বাজারের কাছে অবৈধ ভাবে এক লন্ডন প্রবাসী জায়গা সরকারী জায়গা থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ ভাবে ঘুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরের খাস জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করে জমাট করে আসছিলেন।

খবর পেয়ে গত ৩ আগষ্ট সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকরা গেলে তিনি বিভিন্ন ভাবে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি ব্যর্থ হয়ে এক সাংবাদিকের মোবাইলে কিছু টাকা বিকাশ করেন। পরে ঐ সাংবাদিক তার নাম্বারে টাকা রির্টান করেন। পরে টাকা ফেরতের ঘটনা নিয়ে একটি নাটক সাজান এখানে নাকি চাঁদাবাজি হয়েছে। কিন্তু চাঁদা চাওয়ার কোন দালিলিক প্রমান দিতে পারেননি।

এদিকে গত ৩ আগষ্ট পানিউমদা বাজারের নিকট অবৈধ বালু মহালে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন অভিযান চালান। অবৈধ বালু ব্যবসায়ী শাহ কাওসার আহমদ গংদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু প্রভাব মহলের চাপে লন্ডন প্রবাসীর জায়গায় রাখা সরকারী জায়গার অবৈধ বালু জব্দ করেননি। ফলে এলাকার মানুষ দাবি জানান যেখানে অবৈধ বালুর জন্য জরিমানা করা হলো সেটি কেন জব্দ করা হয়নি। গতকাল শুক্রবার সরজমিন এই বালু মহাল পরিদর্শন করে দেখা যায়, কাওসার গংরা আবারও সরকারীভাবে জব্দ করা বালু মহালটি তারা বাঁশে বেড়া দিয়ে রেখেছে। এখান থেকে তারা বিভিন্ন জায়গায় বালু বিক্রির পায়তারা করছে।

রুহেল আহমদ নামে একজন বলেন, ভাই এসব লিখে কি হবে, সরকারী ভাবে এখানে বালু জব্দ করা হলো। “৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো, কিন্তু বালু খেকোরা আবারও বালু মহাল দখল করে বালু বিক্রি করছে, তাদের খুঁটির জোর নিয়ে প্রশ্ন উঠে” কেন এই মহালের সরকারী বালু জব্দ করা হয়নি জানতে চাই।

সাতাইহাল গ্রামের রুকাইয়া (ছন্দ নামে) বলেন, কাওসার গংরা র্দীঘদিন ধরে শুধু অবৈধ বালু তুলছেন না, তারা পাহাড় টিলা কাটা, লাল মাটি বিক্রি ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে । তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অনেকেই আক্রমনে শিকার হয়ে পঙ্গু হয়েছেন। আর আমি মরতে চাই না। এবিষয়ে শাহ কাওসার আহমদ এর সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় তিনি ইতালী চলে গেছেন, তার চাচাতো ভাইযেরা এটা পরিচালনা করছেন। কিন্তু তারা কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন বলেন, আমি এখন আর নবীগঞ্জে নেই। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বর্তমান ইউএনও মহোদয়।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, আমি নতুন এসেছি, খোঁজ খবর নিয়ে বিস্তারিত ব্যবস্থা করবো। সরকারী জায়গায় অবৈধ বালু তুলে কেউ বিক্রি করতে পারেনা।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *