সারাবিশ্ব

ট্রাম্পের পোস্টের জেরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করলেন আইসল্যান্ড

প্রকাশিত :
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
৯ বার সংবাদটি দেখেছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি মানচিত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আইসল্যান্ড। মানচিত্রটিতে আইসল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার নকশায় ঢেকে ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে মার্কিন পতাকার নকশায় দেখানো হয়। পুরো ভূখণ্ডের ওপর ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ লেখা ছিল।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থোরগেরদুর ক্যাটরিন গুনারসদোত্তির ট্রাম্পের পোস্টকে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আইসল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিলি লংকে তলব করেন। গত মাসেই লং আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন।

কোনো রাষ্ট্রদূতকে তলব করা সাধারণত কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে স্বাগতিক দেশ সংশ্লিষ্ট সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের অসন্তোষ জানায়।

ট্রাম্পের পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো, যখন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আগ্রহ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার আহ্বানসহ তার বিভিন্ন ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে।

ট্রাম্পের মানচিত্র নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণ বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা মার্কিন হতে চায় না।

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ তার দ্বিতীয় মেয়াদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন বলে দাবি করে আসছেন তিনি।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশন গ্রিনল্যান্ডে ২০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ট্রাম্পের এই পোস্ট আসে। শিক্ষা, ইন্টারনেট সংযোগ, কাঁচামালের ব্যবহার এবং জলবিদ্যুৎ খাতে ওই বিনিয়োগ ব্যয় করার কথা জানিয়েছে কমিশন।

ট্রাম্পের পোস্টের পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেক্সিকো কোনো বিদেশি দেশের উপনিবেশ বা আশ্রিত রাষ্ট্র নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না। মেক্সিকো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি



রোহান/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *