বরিশাল

প্রয়োজনে লাশ পড়বে, চেয়ার ছাড়বো না, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২১ বার সংবাদটি দেখেছে

 

দেশের বানী ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশালের উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়কে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম–দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে পৈতৃক জমি ও পূর্বপুরুষের কবরস্থান উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. মাসুম হাওলাদার।

এর আগেও সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, তদারকিতে অবহেলা ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে ‘পার্সেন্টিজ’ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হারতা নয়াকান্দি ফুটব্রিজ–দক্ষিণ সাতলা সড়ক নির্মাণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে বেহাল হয়ে পড়ায় তার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সানুহার–ধামুরা সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করায় শিক্ষার্থীদের শাসানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত কাউন্সিলর হিসেবেও তার দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের প্রয়োজনে লাশ পড়বে, চেয়ার ছাড়বো না”—এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সর্বশেষ ধামুড়া–শোলক সড়কের সন্ধ্যা নদীর শাখা নদীর ওপর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেতুর কাজ দেড় বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো চালু হয়নি; স্থানীয়দের মই দিয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে।

সেতুর পূর্ব প্রান্তে থাকা কয়েকটি বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের পৈতৃক জমি ও কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আপত্তি জানালে মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে।

এদিকে এত অভিযোগ ও বিতর্কের পরও সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে সুব্রত রায়কে ‘সেল্টার’ দিয়ে আসছেন।

ওই কর্মকর্তার প্রভাবেই কি একের পর এক অভিযোগের পরও সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নও উঠেছে।ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত বদলি ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যথায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

একের পর এক অভিযোগ, জনঅসন্তোষ ও বিতর্কের পরও অটুট সুব্রত রায়ের চেয়ার। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায় তার খুঁটির জোর’ কোথায়, আর কেই বা তাকে সেল্টার দিচ্ছেন ?

 

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *