স্পোর্টস

সাকিবের ‘সিংহাসন’ দখলে নিতে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাকীরা

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
/
২৬ বার সংবাদটি দেখেছে

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫০ উইকেট শিকার করে এখনও শীর্ষ উইকেটশিকারির মুকুট ধরে রেখেছেন সাকিব আল হাসান। শহিদ আফ্রিদি, লাসিথ মালিঙ্গার মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে এই অনন্য কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা সাকিবের সেই রাজত্ব এখন হুমকির মুখে। আসন্ন বিশ্বকাপে তার সিংহাসন দখলের মিশনে নামছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও রশিদ খান।

সাকিব আল হাসান মানেই মাঠে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি শক্তি। ব্যাটে-বলে তার দাপটে গর্জে ওঠে গ্যালারি, উজ্জীবিত হয় পুরো দল। অথচ সেই সাকিবই আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহু দূরে, নির্বাসিত এক নাম।

এই অলরাউন্ডার যখন মাঠের বাইরে, তখন দেশের ক্রিকেটেও যেন নেমে আসে দুর্যোগের ছায়া। আইসিসির দ্বিমুখী নীতির কারণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ বয়কট করতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ—যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় হয়ে থাকবে।

তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে এক উজ্জ্বল নাম—সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার শিকার করা ৫০টি উইকেট আজও অক্ষত এক রেকর্ড, যার নিচে চাপা পড়ে আছেন আফ্রিদি-মালিঙ্গার মতো কিংবদন্তিরা।

রাজনীতিতে পা রাখার পর যেন থমকে গেছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দীর্ঘদিন ধরে দেশান্তরী এই তারকা এখন লিগ ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা—বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। যাকে একসময় ক্রিকেট বিশ্ব চিনতো ‘জাদুকর’ নামে, সেই জাদুকর আজ ব্যস্ত নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে।

সাকিবহীন এই বিশ্বকাপে তার গড়া সিংহাসন তাই নড়বড়ে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও রশিদ খান—আধুনিক ক্রিকেটের দুই স্পিন সেনসেশন—ওত পেতে আছেন সেই ৫০ উইকেটের রাজ্য দখলের অপেক্ষায়। দুজনের ঝুলিতেই এখন সমান ৩৭টি করে উইকেট।

ইতিহাস বদলাতেই পারে, নতুন কেউ হয়তো উঠবে চূড়ায়। কিন্তু সাকিব আল হাসানের সেই দাপুটে বিচরণ—ক্রিকেট বিশ্ব কি আদৌ ভুলতে পারবে?

বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপে নেই, নেই এই পোস্টার বয়ও। তবে নির্বাসন জীবন কাটিয়ে আলমারিতে তুলে রাখা সেই লাল-সবুজের গৌরবময় জার্সিটা আবারও গায়ে চড়াতে পারবেন কি-না সাকিব, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।


কুশল/সাএ



মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *