জাতীয়

ই-রিকশার নিবন্ধন কিভাবে, কারা পাবেন জেনে নিন

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
/
৩ বার সংবাদটি দেখেছে

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে আসছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে ইচ্ছেমতো রিকশা নামানো বা এক সিটি করপোরেশন থেকে অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় চালানোর সুযোগ থাকছে না। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চলতে পারবে না। একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নিতে পারবেন। তবে আবেদন করলেই মিলবে না অনুমোদন; রিকশাকে পাস করতে হবে কারিগরি মান, নিরাপত্তা ও ফিটনেস পরীক্ষায়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ই-রিকশার নিবন্ধন আবেদন ফরম বিতরণ শুরু করছে। নগর ভবন ও সংস্থাটির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ১০০ টাকা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করা যাবে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও (ডিএনসিসি) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি ফরম ছাপানোর কাজ করছে; শিগগিরই ফরম বিতরণের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করে। নতুন বিধিমালাটি দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ই-রিকশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধনের আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। এই সীমা সব সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রযোজ্য। অর্থাৎ একাধিক সিটি করপোরেশনে আবেদন করেও পাঁচটির বেশি রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে না। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি ছবি, নির্ধারিত ফি জমার রসিদ ও রিকশার ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। রিকশার কারিগরি মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যাচাই করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। সব শর্ত পূরণ হলে আবেদন পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

পুরোনো রিকশা বাতিল করে নতুন রিকশা কেনার বাধ্যবাধকতা নেই। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাঠামোগত পরিবর্তন এবং ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে পারলে পুরোনো রিকশাও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে।

নতুন বিধিমালায় দুই যাত্রী বহনক্ষমতার রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। চার যাত্রী বহনক্ষমতার রিকশার ক্ষেত্রে ফি ১০ হাজার টাকা। বার্ষিক নবায়ন ফি যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য দিতে হবে ১ হাজার টাকা। নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি নিবন্ধিত রিকশায় থাকবে কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট।

ঢাকাকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের রিকশার জন্য আলাদা রং নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। এক অঞ্চলের রিকশা অন্য অঞ্চলে চলতে পারবে না। ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। স্কুল, হাসপাতাল ও ব্যস্ত এলাকায় এই সীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও নিষিদ্ধ সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না।

শুধু রিকশার নিবন্ধন নয়, চার্জিং স্টেশন পরিচালনার জন্যও নিবন্ধন নিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনুমোদনহীন ব্যাটারি ব্যবহার এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. এহসানের নেতৃত্বে গবেষক দল ই-রিকশার নতুন নকশা তৈরি করেছে। এতে হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক, বিকল্প পার্কিং ব্রেক, পেছনের যান দেখার আয়না, সংকেতবাতি ও স্থায়ী হেডলাইটসহ ১৬টি নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন নকশা অনুযায়ী একটি রিকশা তৈরি করতে খরচ পড়বে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। ফলে নতুন নকশা অনুসরণ, কারিগরি মান নিশ্চিত করা এবং নিবন্ধন নিতে রিকশার মালিকদের বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তবে নিবন্ধন কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়কে নিয়ম মানানো এবং বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।



স্বাধীন/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *