ধর্ম ও জীবন

ঋতু পরিবর্তনের সময় যে ৫টি দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

প্রকাশিত :
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
/
৩ বার সংবাদটি দেখেছে

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় প্রকৃতির রূপ। কখনো বৃষ্টি, কখনো ঝোড়ো বাতাস, আবার কখনো বৈরী আবহাওয়া মানুষের জন্য স্বস্তির পাশাপাশি দুর্ভোগও বয়ে আনে। ইসলামি শিক্ষায় এসব প্রাকৃতিক পরিবর্তনকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময় কীভাবে আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাইতে হবে এবং বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে, সে বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বেশ কিছু দোয়া শিখিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি বাতাস পাঠান। অতঃপর তা মেঘমালা সৃষ্টি করে। এরপর তিনি ইচ্ছামতো আকাশে মেঘ ছড়িয়ে দেন কিংবা স্তূপ করে রাখেন। তখন তুমি দেখতে পাও, মেঘের ভেতর থেকে বৃষ্টি বেরিয়ে আসছে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৪৮)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘মানুষ নিরাশ হয়ে পড়ার পর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন।’ (সুরা শুরা, আয়াত: ২৮)

ইসলামে বাতাসকে গালমন্দ করতে নিষেধ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, বাতাস আল্লাহর রহমতের নিদর্শন। কখনো তা রহমত নিয়ে আসে, আবার কখনো শাস্তির কারণ হয়। তাই বাতাসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে এবং এর কল্যাণ কামনা করতে হবে। (সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ)

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় মহানবী (সা.)-এর আমল

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আকাশে মেঘ জমতে দেখলে মহানবী (সা.)-এর চেহারায় উদ্বেগের ছাপ ফুটে উঠত। তিনি ঘরের ভেতরে যেতেন, আবার বাইরে আসতেন। বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর উদ্বেগ কেটে যেত।

এর কারণ জানতে চাইলে তিনি আদ জাতির ঘটনা উল্লেখ করেন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আদ জাতির লোকেরা আকাশে মেঘ দেখে বলেছিল, ‘এটি আমাদের বৃষ্টি দেবে।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত: ২৪) কিন্তু তাদের প্রত্যাশিত সেই মেঘ ছিল মূলত ধ্বংসাত্মক ঝড়ের পূর্বাভাস। (সহিহ মুসলিম)

আবহাওয়া পরিবর্তন, বাতাস ও বৃষ্টির সময় পড়ার জন্য মহানবী (সা.) যে পাঁচটি দোয়া শিখিয়েছেন, সেগুলো হলো—

ছবি: সংগৃহীত

১. বাতাসের কল্যাণ ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া

প্রবল বাতাস প্রবাহিত হলে এর কল্যাণ কামনা এবং অনিষ্ট থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন।

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফিহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউজু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে এই বাতাসের কল্যাণ, এর মধ্যে থাকা কল্যাণ এবং যে কল্যাণের জন্য একে পাঠানো হয়েছে, তা প্রার্থনা করছি। আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যে থাকা অনিষ্ট এবং যে অনিষ্টের জন্য একে পাঠানো হয়েছে, তা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। (সহিহ মুসলিম)

২. আকাশে মেঘ জমলে পড়ার দোয়া

আকাশে মেঘ জমতে দেখলে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাঊজু বিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি।

অর্থ: হে আল্লাহ, যে জিনিস দিয়ে মেঘ পাঠানো হয়েছে, তার অনিষ্ট থেকে আমরা আপনার আশ্রয় চাই। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

মেঘ থেকে যেমন বৃষ্টি হতে পারে, তেমনি তা ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেরও পূর্বাভাস হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রার্থনা করা উচিত।

৩. বৃষ্টি কামনার দোয়া

খরার সময় এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বৃষ্টির জন্য দোয়া করার অনুরোধ করেন। তখন তিনি জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। ওই ব্যক্তির অনুরোধে তিনি দুই হাত তুলে তিনবার দোয়া করেন।

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দিয়ে সাহায্য করুন। (সহিহ বুখারি)

৪. বৃষ্টি শুরু হলে যে দোয়া পড়বেন

বৃষ্টি আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। তবে শুধু বৃষ্টি নয়, মানুষের জন্য কল্যাণকর বৃষ্টি কামনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টি শুরু হলে মহানবী (সা.) এই দোয়া পড়তেন।

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআন।

অর্থ: হে আল্লাহ, এই বৃষ্টিকে উপকারী করুন। (সহিহ বুখারি)

ছবি: সংগৃহীত

৫. অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পড়ার দোয়া

অতিরিক্ত বৃষ্টি কখনো বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নানা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে বৃষ্টি অন্যত্র বর্ষণের জন্য দোয়া করতেন।

আরবি উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়। (সহিহ বুখারি)

প্রকৃতির পরিবর্তন মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ, সতর্কতা অবলম্বন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা মুমিনের শিক্ষা। মহানবী (সা.)-এর শেখানো এসব দোয়া আমাদের সেই শিক্ষাই স্মরণ করিয়ে দেয়।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *