সারাবিশ্ব

সামরিক-অর্থনৈতিক সংকটে ইসরায়েল, ভয়াবহ ‘ধসের’ আশঙ্কা

প্রকাশিত :
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
/
৩ বার সংবাদটি দেখেছে

সামরিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে ইসরায়েল অপরিবর্তনীয় পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইৎজাক ব্রিক। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বৈধতা ও মিত্র হারিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘ সময় এভাবে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থেকে দেশটির টিকে থাকা কঠিন হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম মারিভে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে এসব কথা বলেন সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা। সোমবার (২ নভেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধে ইৎজাক ব্রিক ইসরায়েলের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং সামগ্রিক পতন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি ‘আমরা যে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে চিনতাম, তার আনুষ্ঠানিক মৃত্যুসনদ’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির টেলিভিশন বিশ্লেষকেরা আসনসংখ্যা ও সরকার গঠনের আলোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও রাষ্ট্রের গভীর সংকটগুলো উপেক্ষা করছেন। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতিটি যেন ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজে বসে একটি অর্কেস্ট্রা দলের সংগীত পরিবেশনের মতো।

ইসরায়েলের সামরিক কলেজগুলোর সাবেক কমান্ডার এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেনাসদস্যদের অভিযোগবিষয়ক ন্যায়পাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্রিক বলেন, দেশটির স্থলবাহিনী কাঠামোগত দুর্বলতা ও মনোবল ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত একাধিক হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতাও কমে গেছে।

তাঁর আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়া সেনাবাহিনী বড় ধরনের আক্রমণ ঠেকানো কিংবা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিক। তাঁর দাবি, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের জাতীয় ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন শেকেলে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৪৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বিচ্ছিন্নতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে সরল ও অবাস্তব বলে সমালোচনা করেন ব্রিক। তাঁর মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ইসরায়েলিদের সঞ্চয়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দেশটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে ব্রিক বলেন, ইসরায়েলি সমাজে শুধু রাজনৈতিক মেরুকরণ নয়, বরং একধরনের ‘নীরব গৃহযুদ্ধ’ চলছে। চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তাসহ দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়ছেন। এতে কয়েক দশকে গড়ে ওঠা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা হারাচ্ছে ইসরায়েল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। যোগ্যতা ও সততার পরিবর্তে রাজনৈতিক আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *