
বরিশালে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনারের
নাঈম ইসলাম,দক্ষিণ টিভি : ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রকৃত উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা এবং তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা অনিয়মের সুযোগ না রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবির, সহকারী পরিচালক জাবির আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ৩৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ করা হয়। এসব প্রযুক্তিসামগ্রীর মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সুফল যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও উপযুক্ত পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা অনিয়মের সুযোগ রাখা যাবে না। প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই উপকারভোগী নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ। এ ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীলতার কোনো বিকল্প নেই। একটি ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত উপকারভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, আবার অযোগ্য কেউ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তাই প্রতিটি তথ্য যাচাই করে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় প্রতিটি পরিবারের বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করতে হবে। কোনো ধরনের তাড়াহুড়া, অনুমাননির্ভর তথ্য কিংবা পরিচিতির ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রকৃত উপকারভোগী যাতে বাদ না পড়েন এবং অনুপযুক্ত কেউ যাতে সুবিধা গ্রহণের সুযোগ না পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে।
মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রমকে শুধু দাপ্তরিক দায়িত্ব হিসেবে না দেখে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের দক্ষতা বাড়বে। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার ফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য