জেলার খবর

নড়াইলে পাটকাঠি ঘিরে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

এক সময় সোনালি আঁশের ‘রুপালি কাঠি’ অবহেলা আর অনাদরে পড়ে থাকতো গ্রামের পথে-ঘাটে বা বাড়ির আঙিনার কোণে। সাধারণত মাটির চুলায় রান্না আর পানের বরজের ছাউনি তৈরিতে ব্যবহৃত হতো পাটকাঠি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই চিত্র। বর্তমানে বিভিন্ন কাজে এর চাহিদা বাড়ায় নড়াইলের গ্রামাঞ্চলে পাটকাঠি ঘিরে জমে উঠেছে বেচাকেনা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠ, পাকা সড়ক ও বাড়ির উঠানে দেখা মিলছে রোদে শুকাতে দেওয়া পাটকাঠির স্তূপ। পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে কাঠিগুলো রোদে শুকিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা। দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা কৃষকের বাড়ি থেকেই এসব পাটকাঠি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ভ্যানে করে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করছেন। এতে গ্রামাঞ্চলে পাটকাঠি ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বাণিজ্যিক তৎপরতা।

জেলার কৃষকরা জানান, আগে পাটকাঠি নিয়ে তেমন বাণিজ্যিক আগ্রহ ছিল না। তবে বর্তমানে এর কদর বেড়েছে। পাট বিক্রির পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। অনেক কৃষক পাটকাঠি বিক্রির টাকা দিয়ে পাট চাষের খরচের একটি অংশ মেটাতে পারছেন।

কৃষক তাহের আলী বলেন, ‘আগের তুলনায় পাটকাঠি বিক্রি করে এখন আমাদের আয় বেড়েছে। মাগুরা, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পাটকাঠি কিনতে আসছেন।’

লোহাগড়া উপজেলার নলদী ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামের পাটকাঠি ব্যবসায়ী মো. মনা মিয়া বলেন, ‘আমি গ্রাম থেকে পাটকাঠি কিনে রেখেছি। এ বছর প্রতি মণ পাটকাঠি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশা করছি।’

মাগুরা জেলার নহাটা এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে সংগ্রহ করা যায় বলে প্রতিবছর তিনি এ এলাকায় পাটকাঠি কিনতে আসেন। পরে সেগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন।

পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাড়ছে। আগে প্রধানত জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বিভিন্ন শিল্প ও পণ্য তৈরিতে এর ব্যবহার হচ্ছে। পাটকাঠি থেকে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও দাপ্তরিক সরঞ্জাম। ফলে কৃষিপণ্য হিসেবে পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নড়াইলে মোট ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবং ৫৮ হাজার ১৯৮ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নড়াইলে পাটকাঠির বাড়তি চাহিদা কৃষকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে। পাটের আঁশ বিক্রির পাশাপাশি অব্যবহৃত কাঠি থেকেও আয় হওয়ায় পাট চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে। ভবিষ্যতে সোনালি আঁশের এই রুপালি কাঠি কৃষকের আয়ের আরও বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *