জেলার খবর

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

প্রকাশিত :
শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ, সড়কে হামলা এবং বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে অর্ধদিবস অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের নেতাকর্মীরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

অবরোধের প্রভাবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ি থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। তবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাতের বাসগুলো পুলিশি পাহারায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহরের বনরূপা ও কল্যাণপুর বাজারসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। একইভাবে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করছে।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সেলিম বলেন, এ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে বেশ কয়েকটি অটোরিকশা এবং রাঙামাটি থেকে ছেড়ে যাওয়া পাহাড়িকা বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুপও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রাম রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল

এদিকে, খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী ব্রিজ ও স্বনির্ভর এলাকা, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কৃষি গবেষণা এলাকা এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের গুইমারা জোড়াব্রিজ এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপমারা এলাকায় গাছ কেটে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

খাগড়াছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু জানান, ঢাকা থেকে আসা রাতের বাসগুলো পুলিশি পাহারায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে কয়েকটি বাস রামগড়ে অবস্থান করছে। সেগুলোকে দুপুর ১২টার পর খাগড়াছড়িতে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহরের কয়েকটি স্থানে পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ধাওয়া দেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এরও আগে বুধবার সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে পর্যটকদের সেদিনই সাজেক ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাময়িকভাবে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। তবে ফেরার পথে উজোবাজার এলাকায় তাঁদের গাড়িবহর অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। পর্যটকদের নিরাপদে বের করে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হস্তক্ষেপ করলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *