জেলার খবর

নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটার অভিযোগ

প্রকাশিত :
রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
/
১২ বার সংবাদটি দেখেছে

বরিশালের মুলাদীতে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে কলেজের দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে সহপাঠী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে মুলাদী সরকারি কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার (১৭ অক্টোবর) মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুই ছাত্রীর সঙ্গে তাদের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তারা নিয়মিত একসঙ্গে কলেজে যাতায়াত করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই দুই ছাত্রী সহপাঠীর মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে দেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে আনেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, হামলাকারীরা তাদের চুল ধরে টানাটানি করেন, পেটে লাথি মারেন এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে মারধর করেন। এ সময় জুতাপেটা করার পাশাপাশি পোশাক ধরে টানাহেঁচড়া করে তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি কলেজে আসা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কলেজ চত্বরে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রীকে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে, চড়-থাপ্পড় মারতে এবং জুতাপেটা করতে দেখা গেছে।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, তারা কলেজে নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। এ জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রীর বড় বোন নাসরিন আক্তার বহিরাগতদের নিয়ে হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, “ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মুলাদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইউএনও ও থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।”



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *