ধর্ম ও জীবন

নামাজ পড়াতে প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি বেয়ে মসজিদে ওঠেন ইমাম

প্রকাশিত :
রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ভান শহরে ঐতিহাসিক একটি মসজিদে নামাজ পড়াতে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি বেয়ে দুর্গের চূড়ায় ওঠেন ইমাম সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ। দুর্গম ও খাড়া পথ পাড়ি দিয়ে মসজিদে পৌঁছানোর এই কষ্টকর যাত্রা তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালন করতে পেরে আনন্দিত তিনি।

তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ আনাদোলু এজেন্সির (এএ) বরাতে বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ মাস ধরে ভান দুর্গের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সুলেমান খান মসজিদে ভারপ্রাপ্ত ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিবগাতুল্লাহ বিলমেজ। প্রতিদিন আতাতুর্ক কালচারাল পার্ক থেকে দুর্গের চূড়ায় মসজিদটিতে পৌঁছাতে তাঁকে প্রায় পাঁচ হাজার সিঁড়ি পাড়ি দিতে হয়।

কষ্টকর এই যাত্রা শেষে মসজিদে পৌঁছে আজান দেওয়া, জামাতে নামাজ পড়ানো এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি মসজিদ ও আশপাশের এলাকার ইতিহাস সম্পর্কে তাঁদের জানান তিনি।

বিলমেজ বলেন, ‘যদিও এটি ক্লান্তিকর, তবু আল্লাহর শুকরিয়া, আমি আনন্দের সঙ্গে কাজটি করি। কারণ, আমি স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব পালন করছি।’

তিনি জানান, দুপুরের নামাজের আগেই মসজিদে পৌঁছান এবং সন্ধ্যার নামাজের পর নিচে নেমে আসেন। মসজিদটি জাদুঘর কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত হওয়ায় সেখানে ফজর ও এশার নামাজে নিয়মিত জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।

সুলতান সুলেমানের স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ
সুলেমান খান মসজিদটির নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি। তবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট ১৫৩৪ সালে মসজিদটি সংস্কার করেছিলেন বলে জানা যায়। তিন বছর আগে মসজিদটি আবারও সংস্কার করা হয় এবং সেখানে নামাজ আদায় শুরু হয়।

বিলমেজ বলেন, দুর্গ দেখতে আসা পর্যটকেরা শুধু দুর্গ ঘুরেই চলে যান না, তাঁরা ঐতিহাসিক সুলেমান খান মসজিদটিও পরিদর্শন করেন। তিনি তাঁদের মসজিদটির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানান।

পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলতে শিখেছেন ইংরেজি
তুরস্কের ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তর এবং স্থানীয় মুফতি কার্যালয়ের অধীনে প্রায় পাঁচ বছর বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বিলমেজের। বর্তমান দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁর ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতাও বেড়েছে।

এখন বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন তিনি। তাঁদের কাছে মসজিদ, প্রাচীন উরার্তু সভ্যতার দুর্গ এবং পুরোনো ভান নগরীর ইতিহাস তুলে ধরেন।

এ ছাড়া পর্যটকদের সঙ্গে ইসলাম ধর্ম নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশ নেন বিলমেজ। তাঁর মতে, এসব আলোচনায় উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।

চূড়ায় পৌঁছে ক্লান্তি ভুলে যান ইমাম
প্রতিদিনের দীর্ঘ ও কষ্টকর পথচলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিলমেজ জানান, দুর্গের চূড়ায় পৌঁছে চারপাশের মনোরম দৃশ্য দেখলে তাঁর সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে যখন চূড়ায় পৌঁছে চারপাশের দৃশ্য দেখি, তখন এমন সুন্দর ও মূল্যবান দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের দোয়া পাওয়া, এমনকি কেউ যখন বলেন, “আল্লাহ আপনার ওপর সন্তুষ্ট হোন”, তখন তা আমার জন্য সম্মানের বিষয়।’

দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় সেবা ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নিজের ভূমিকা রেখে চলেছেন এই ইমাম।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *