বিনোদন

ময়নাতদন্তে জানা গেল নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ

প্রকাশিত :
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌রোগের কথা উল্লেখ করেছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তীব্র হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ময়নাতদন্তের ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, নানা পাটেকরের হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী বাম প্রধান করোনারি ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। হৃদ্‌যন্ত্রের বড় একটি অংশে রক্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এই ধমনীর। এতে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তিনি তীব্র হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসজনিত করোনারি ধমনির সংকোচন ও রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তীব্র মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্বাভাবিক শারীরিক কারণে হওয়া মৃত্যু।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন নানা পাটেকর। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য যোগাযোগ করেন। পরে তাঁকে উদ্ধারে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।

চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর গোয়ায় পৌঁছে বাবার মরদেহ নিয়ে পুনেতে যান। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় দোনজে গ্রামের ফার্মহাউসে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালে ও মুরলিধর মোহল, অভিনেতা জ্যাকি শ্রফসহ রাজনীতি, চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবন

হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেছেন নানা পাটেকর। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। চলচ্চিত্র ও শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রীতে ভূষিত করা হয়।

১৯৭৮ সালে মুজাফ্‌ফর আলীর ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হয় তাঁর। পরে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নানা পাটেকর। ছবিটিতে সেনা কর্মকর্তার চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন তিনি।

২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সুবেদার’ চলচ্চিত্রে তাঁকে বিশেষ চরিত্রে দেখা যায়। প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অনিল কাপুর ও রাধিকা মদনের পাশাপাশি অভিনয় করেন তিনি।

নানা পাটেকরের মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *