জেলার খবর

শ্রীবরদীর সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত :
রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৫ বার সংবাদটি দেখেছে

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে বালিঝুড়ি গ্রাম। সীমান্তের ওপার ভারত থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীটি এই গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নদীটির ওপর এখনো নির্মাণ হয়নি একটি সেতু। এ কারণে বালিঝুড়িসহ আশপাশের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন নানা ঝুঁকি নিয়ে সোমেশ্বরী নদী পারাপার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, সোমেশ্বরীর প্রবাহের কারণে গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা খাড়ামোড়া, রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকুচা ও বালিজুরী গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত। নদী পারাপারের জন্য একটি স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রতিদিনই নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের। তাদের কাছে সেতুটি কেবল যাতায়াতের সুবিধা নয়, নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের একটি দীর্ঘদিনের প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গ্রামগুলোর যোগাযোগের জন্য একটি রাস্তা হওয়ায় নদী পারাপারে বিকল্প কোনো পথ নেই। তাই নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থে বাঁশ-কাঠ জোগাড় করে নদীর ওপর অস্থায়ী সাঁকো বানিয়ে নিয়েছেন তারা। তবে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়লেই সেই সাঁকো টিকে না, বছরে একাধিকবার ভেঙে যায়। তখন বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়, আর অনেক সময় বুকসমান পানির মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হয় স্থানীয়দের। নদী পারাপারের সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ মানুষ। প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময় ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। আর কোনো রোগীর দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথটিও হয়ে ওঠে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভোগের।

শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ‘হান্ডেড মিটার’ প্রকল্পের আওতায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে বর্তমানে প্রকল্পটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে । প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে ।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগের বিষয়টি সেতুমন্ত্রী, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকাটিতে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *