জেলার খবর

স্কুলছাত্রী তাজমিনকে হত্যার আগে ধর্ষণও করেন সিএনজিচালক সুমন: পুলিশ

প্রকাশিত :
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
/
১২ বার সংবাদটি দেখেছে

কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। একপর্যায়ে চালক নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে অন্য পথে গাড়ি চালাতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন হোয়াটসঅ্যাপে বাবার কাছে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানায়। তবে গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাননি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাটি বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি নির্জন ধানক্ষেতে যায়। সেখানে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করলে চালকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সুমন গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি। পরে অটোরিকশাটি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাজমিনের মরদেহ ও পাশে পড়ে থাকা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে লালমাই থানা-পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং তার মোবাইল ফোনের কলতালিকা পর্যালোচনার মাধ্যমে ঘটনার সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত থাকায় পরিবারটি নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে স্কুলে অনুপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের তথ্যমতে, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে নগরীর হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়। রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠায় সে। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা গিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *