ভিন্ন স্বাদের খবর

চার বিশ্ব রেকর্ডের মালিক ১০ বছরের ম্যাক্স, ফ্যাশনে বদলের বার্তা টেকসই কাপড়ে

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

মাত্র ১০ বছর বয়সেই ফ্যাশন দুনিয়ায় নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে ম্যাক্স আলেকজান্ডার। পোশাক নকশা থেকে কাপড়ের সংগ্রহ তৈরি—সবখানেই তার আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা। ইতিমধ্যে চারটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়া এই খুদে ডিজাইনার এবার আলোচনায় এসেছে টেকসই কাপড়ের নিজস্ব সংগ্রহ প্রকাশ ও দ্রুততম সময়ে সেলাই মেশিনে সুতা পরানোর কৃতিত্বে।

ফ্যাশন মানেই কি শুধু নতুন পোশাক, রং আর নকশার খেলা? ক্যালিফোর্নিয়ার খুদে ডিজাইনার ম্যাক্স আলেকজান্ডারের কাজ যেন সেই ধারণার বাইরে গিয়ে আরেকটি প্রশ্ন সামনে আনে—পোশাক তৈরির মধ্য দিয়েও কি পৃথিবীর প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া সম্ভব? মাত্র ১০ বছর বয়সেই এই প্রশ্নকে নিজের কাজের অংশ করে তুলেছে সে।

ছবি: সংগৃহীত

গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের প্রথম ফ্যাব্রিক সংগ্রহ প্রকাশ করে ম্যাক্স। মড ফ্যাব্রিকসের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি এ সংগ্রহে রয়েছে ১৫ ধরনের উপাদান। বিসিআই কটন, ইউরোপীয় ফ্ল্যাক্স লিনেন, ইকোভারো ভিসকস ও পুনর্ব্যবহৃত পলিয়েস্টার ফক্স ফারের মতো উপাদান দিয়ে সাজানো হয়েছে সংগ্রহটি। এর মধ্য দিয়ে নিজস্ব ফ্যাব্রিক লাইন প্রকাশ করা সবচেয়ে কম বয়সী ডিজাইনার হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে সে।

ম্যাক্সের কাছে টেকসই ফ্যাশন কেবল উপকরণ নির্বাচনের বিষয় নয়; বরং দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনার একটি উপায়। তার ভাষায়, ছোট একটি পছন্দও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। সবকিছু নিখুঁত করে তোলার অপেক্ষা না করে প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েও টেকসই জীবনযাপনের দিকে এগোনো সম্ভব।

ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে নিজের আরেকটি দক্ষতার প্রমাণও দেয় ম্যাক্স। মাত্র ১০ দশমিক ১৬ সেকেন্ডে একটি সেলাই মেশিনে সুতা পরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ে সে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক রেকর্ডটি নিশ্চিত করেন এবং দর্শকদের করতালির মধ্যে তার হাতে সনদ তুলে দেন।

তবে ম্যাক্সের এই সাফল্য এক দিনে আসেনি। মাত্র চার বছর বয়সে পোশাক নকশা ও সেলাইয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। সাত বছর বয়সে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে, রানওয়ে শো ডিজাইন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে প্রথম গিনেস রেকর্ড গড়ে সে। প্রথম রেকর্ড অর্জনের আগেই শতাধিক নকশা তৈরি করেছিল ম্যাক্স। তার তৈরি পোশাকও পৌঁছে গেছে বিভিন্ন দেশের ক্রেতাদের কাছে।

এরপর ২০২৬ সালের মার্চে প্যারিস ফ্যাশন উইকে নিজের সংগ্রহ প্রদর্শন করে নতুন ইতিহাস গড়ে এই কিশোর ডিজাইনার। ওই সংগ্রহের প্রায় ৯০ শতাংশ পোশাক তৈরি হয়েছিল টেকসই উপাদান দিয়ে। ফুল থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া নকশাগুলো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল পুরোনো অবিক্রীত কাপড়, অতিরিক্ত মজুত থাকা উপকরণ, পুনর্ব্যবহৃত ব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল কাপড়। পুরো সংগ্রহ প্রস্তুত করতে তার সময় লেগেছিল প্রায় ছয় মাস।

ফ্যাশনের প্রতি ম্যাক্সের আগ্রহের সঙ্গে মিশে আছে কল্পনাপ্রবণ এক মনও। ২০২৩ সালের এক সাক্ষাৎকারে মজা করে সে বলেছিল, আগের জন্মে সে ছিল গুচির প্রতিষ্ঠাতা গুচ্চিও গুচি। এমনকি নিজের দাবির পক্ষে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেছিল, ‘আমি আসলেই ছিলাম।’ শৈশবের এই রসিকতার আড়ালে অবশ্য ফ্যাশন নিয়ে তার গভীর আগ্রহ স্পষ্ট।

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাক্সের তৈরি পোশাক পরেছেন হলিউড অভিনেত্রী শ্যারন স্টোন ও ডেবরা মেসিংয়ের মতো তারকারা। ২০২৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘টাইম ১০০ ক্রিয়েটরস’ তালিকাতেও জায়গা পেয়েছে তার নাম।

বর্তমানে মড ফ্যাব্রিকসের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে ম্যাক্সের নতুন ফ্যাব্রিক সংগ্রহ। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির স্টোরেও এটি পাওয়া যাওয়ার কথা।

ফ্যাশনশিল্পে ম্যাক্সের পথচলা এখনো শুরুর পর্যায়ে। কিন্তু তার কাজ ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতাকে যুক্ত করতে বয়স কোনো বাধা নয়। নতুন নকশা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো উপকরণের পুনর্ব্যবহার, টেকসই কাপড়ের ব্যবহার এবং সচেতন ভোগের ধারণা সামনে এনে সে দেখাচ্ছে, ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাটা শুরু হতে পারে শৈশব থেকেই।

সূত্র: পিপল



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *