
বরিশালে এলপিজি ও সিএনজি সংকট, বাড়তি দামে সিলিন্ডার
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরীতে জ্বালানি গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ মিলছে অর্ধেকেরও কম। কোথাও কোথাও গ্যাস না থাকায় সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারও মিলছে না পর্যাপ্ত। যেসব দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সিএনজি স্টেশনে তীব্র সংকট
নগরীর নথুল্লাবাদ, রূপাতলী ও সিএন্ডবি রোড এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোর মালিকেরা জানান, বেশির ভাগ স্টেশনেই গ্যাস নেই। দু-একটি স্টেশনে সরবরাহ থাকলেও তা চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে গ্যাসচালিত থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্টেশন মালিকদের ভাষ্য, বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০টি যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন চালককে ৩০০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না।
বিআরটিএ ও স্থানীয় সিএনজি মালিক সমিতির নেতারা জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় গ্যাসচালিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। এর মধ্যে সিএনজি ও অটোরিকশা রয়েছে তিন হাজারের বেশি। নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় চালকদের দৈনিক আয় ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পেতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।
নগরীর সাগরদী এলাকার ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের ক্যাশ ইনচার্জ মো. সোহাগ বলেন, তিন-চার দিন ধরে গ্যাসের সংকট চলছে। প্রতিদিন যেখানে প্রায় ২০ হাজার লিটার গ্যাসের চাহিদা রয়েছে, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ হাজার লিটার। তবে সংকটের সঠিক কারণ তিনি জানাতে পারেননি।
রূপাতলীর লিলি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. রিপন সিকদার বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
সিএনজি চালক নাসিমুল ইসলাম বলেন, “সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরেও গ্যাস পাইনি।” পরে সাগরদীর ডোস্ট পাম্পে দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পেলেও ৩০০ টাকার বেশি নিতে পারেননি তিনি।
আরেক চালক মিলন হোসেন বলেন, এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে গাড়ি চালানো তো দূরের কথা, সংসারের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।
সিলিন্ডারেও বাড়তি দাম
সিএনজির পাশাপাশি নগরীতে এলপিজি সিলিন্ডারের সংকটও দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ খুচরা দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।
গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেককে ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, খুচরা পর্যায়ে সান গ্যাস ১ হাজার ৭০০ টাকা, আই গ্যাস ১ হাজার ৭২০ টাকা, ইউনিক ২ হাজার টাকা, ওমেরা ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং যমুনা ১ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলপিজি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে কোম্পানিগুলো ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। এর সঙ্গে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
বরিশালের সান গ্যাসের ডিলার জুয়েল জানান, গত ২৬ সেপ্টেম্বর পাইকারি বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা বেড়েছে। আগে যেখানে দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬৪০ টাকা।
বরিশাল পলিটেকনিক এলাকার গৃহবধূ ফারজানা ববি বলেন, “রান্নার জন্য সিলিন্ডার ছাড়া উপায় নেই। তাই বেশি দাম হলেও কিনতে হচ্ছে।” তিনি বাজারে নিয়মিত তদারকি চালানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে এলপিজি বিক্রির সুযোগ নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত বাজার তদারকি করা হবে।
গ্যাসের সরবরাহ সংকট দ্রুত নিরসন না হলে একদিকে যেমন সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল আরও ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে বাসাবাড়িতে রান্নার জ্বালানি নিয়েও ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য