জেলার খবর

বাইমাইল নয়, তাঁতীবাজার থেকে ‘পালিয়েছিলেন’ পিচ্চি রাজা, গ্রেপ্তার দুই পুলিশ

প্রকাশিত :
রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৮ বার সংবাদটি দেখেছে

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে পিচ্চি রাজা (৩০) গাজীপুরের বাইমাইল নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান।

এর আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রাত সাড়ে আটটার দিকে আসামিবাহী প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা এক উপপরিদর্শক (এসআই) পিচ্চি রাজাকে শৌচকর্মের জন্য গাড়ি থেকে নামান। ওই সময় তিনি কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনা তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদে পাঁচ পুলিশ সদস্য একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়ায় পিচ্চি রাজা ঠিক কোথা থেকে পালিয়েছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। তদন্তে বাইমাইল থেকে পালানোর তথ্যও সঠিক নয় বলে উঠে আসে।

এরপর প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিন পুলিশ সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা এখনো সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোথা থেকে পালিয়েছেন, তা নিয়েও তারা একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, যে স্থান থেকে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার কথা প্রথমে বলা হয়েছিল, সেটিও সঠিক নয় বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত স্থান ও কীভাবে আসামি পালিয়ে গেলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, প্রিজন ভ্যানে কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথে কোথাও থামার সুযোগ নেই। বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে নিকটবর্তী থানায় থামাতে হয়। কিন্তু প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা যে স্থানে গাড়ি থামানোর কথা বলছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই আসে না।

তিনি আরও বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির কাজ শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে মামলাটি তদন্ত করছে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সাহেব আলী পাঠান গনমাধ্যমকে বলেন, একেক পুলিশ সদস্য একেক ধরনের তথ্য দিলেও প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে পালিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পিচ্চি রাজার পালানোর প্রকৃত স্থান, কীভাবে তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে বের হয়ে গেলেন এবং দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বক্তব্যের অসংগতিও যাচাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁকে এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *