জেলার খবর

রাজধানীতে ১০ তলা ভবন থেকে ফেলে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত :
রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৬ বার সংবাদটি দেখেছে

রাজধানীর হাজারীবাগে ১০ তলা ভবন থেকে ফেলে সালেক খান বাবু (৩৫) নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে হাজারীবাগ থানাধীন শংকর-জাফরাবাদ এলাকার ২৭৯/১ নম্বর আলী মঞ্জিল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সালেক খান বাবু নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এবং মোহাম্মদপুর থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে রায়েরবাজার জাফরাবাদ এলাকার আলী মঞ্জিলের নিরাপত্তাকর্মী বাঁধনের সঙ্গে বাবুর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে বাঁধন লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে বাবুর মাথায় আঘাত করেন।

বাবুর চিৎকার শুনে ভবনের আরেক নিরাপত্তাকর্মী মিল্টনসহ কয়েকজন সেখানে জড়ো হন। অভিযোগ, তারা বাবুকে আবারও মারধর করেন। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে মিল্টন তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর তারা নিচে নেমে আসেন।

পরে ভবনের দক্ষিণ পাশে একটি টিনের চালের ওপর বাবুকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারের সময়ই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা সুফিয়া বেগম (৫৫)।

খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ভবনের দক্ষিণ পাশের একটি প্লটের গ্যারেজের টিনের চাল থেকে বাবুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের মা সুফিয়া বেগমের অভিযোগ, ভবনের কেয়ারটেকার মিল্টন, বাঁধন চাকমাসহ কয়েকজন মিলে তার ছেলেকে প্রথমে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের পর তাকে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মো. মিল্টন (৪২), বাঁধন চাকমা (৫০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ওই ভবনে রংয়ের কাজের বিল বাবদ তার ৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল। কোম্পানি তাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা দিতে চায়নি। এ নিয়ে তাকে কয়েক দফা হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পাওনা টাকা আদায়ে বিএনপির এক নেতার কাছে বিচার দিলেও তিনি টাকা উদ্ধার না করে বিষয়টি চেপে যেতে বলেন। পরে তার ছেলে কোম্পানিকে হুমকি দিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ কোনো দিন ক্ষমতায় এলে বাকি টাকা দিতে হবে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *