জেলার খবর

রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৬ বার সংবাদটি দেখেছে

বাড়ির পাশেই ঢাকা আইনজীবী সমিতি। যেখানে আমাদের নানাবিধ সমস্যা এবং দুঃখ কষ্ট নিয়ে আইনজীবীদের স্মরণাপন্ন আমরা হতে চাই আজ সেই আইনজীবী সমিতিই আমাদের চোখে জল আনছে। এমনই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাজধানীর কোতয়ালীর কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের বাসিন্দা আনিসুল বারী রাজু। নিজের বসতবাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ঢাকা আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে তার পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও বাড়ি ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন।

একদিকে পৈতৃক বাড়ির মালিকানার দাবিতে আইনি লড়াই, অন্যদিকে বাড়ি ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার আশঙ্কা-এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আনিসুল বারী রাজু। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেয়ে তানজীন বারী খুশী।

লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি এবং আমার অপর তিন ভাই বোন জেলা-ঢাকা, থানা-কোতয়ালী, মৌজা-সাবেক শহর ঢাকা, হালে-ঢাকা, এস এ দাগ নং-আর এস খতিয়ান নং-৮৩, আর এস দাগ নং-১৮৫১৫, ১৮৫১৬ ও ১৮৫১৭, সম্পত্তির পরিমান ০৮৪২ অযুতাংশ, ঢাকা সিটি জরীপে খতিয়ান নং- ৬০৪৭, দাগ নং-১৩১৯৩ সম্পত্তির পরিমান-০৭২০ অযুতাংশ, যাহার হোল্ডিং নং-৮/১ কোর্ট হাউজ ষ্ট্রীট, কোতয়ালী, ঢাকা এর মালিক ও ভোগ-দখলকার এবং ১৯৬৬ সাল হতে আমরা উক্ত বাড়ীতে বসবাস করে আসছি।

আনিসুল বারী রাজুর দাবি, ঢাকার কোতয়ালী থানার ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের পৈতৃক বাড়িটি তিনি ও তার তিন ভাই-বোনের মালিকানাধীন। ১৯৬৬ সাল থেকে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তবে, সম্প্রতি বাড়িটির একটি অংশ অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, তার বাবা এম এ আওয়াল ১৯৬১ সালের বায়না চুক্তির ভিত্তিতে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে ১৯৬৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করা হয়। পরে তার বাবার নামে নামজারি এবং আরএস জরিপেও সম্পত্তিটি তার বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।

বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি ও তার ভাই-বোনেরা ওই সম্পত্তির মালিক হন বলে দাবি করেন রাজু। পরবর্তী সময়ে সিটি জরিপেও তাদের নামে সম্পত্তিটি রেকর্ডভুক্ত হয়। এমনকি সর্বশেষ ১৪৩৫ বাংলা সন পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছেন বলেও দাবি তার।

সংবাদ সম্মেলনে রাজু বলেন, তার বাড়ির পশ্চিম পাশে ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের অর্পিত সম্পত্তি লিজ নেওয়ার জন্য ঢাকা আইনজীবী সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছে। ওই সম্পত্তির পুরোনো স্থাপনা অপসারণ করা হলে তার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেন।

তার ভাষ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্পিত সম্পত্তি শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তাকে জানানো হয়, তার বাড়ির হোল্ডিংয়ের ৩৯১ অযুতাংশ সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তালিকায় রয়েছে। বিষয়টি জানার পর এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

রাজুর দাবি, আরএস ও সিটি জরিপে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পত্তির রেকর্ড থাকার পাশাপাশি নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করায় অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আগে জানতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও পাননি।

আনিসুল বারী রাজু বলেন, রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওলিউল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। ওই শুনানিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির পক্ষও অংশ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে, রুল জারির পরও তার বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রাজু। বাড়িতে থাকা আইনজীবীদের চেম্বার ছেড়ে দেওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও ঢাকা আইনজীবী সমিতি তার বাড়ির বাইরে থেকে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এতে যে কোনো সময় তার বাড়ি ও সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ঢাকা আইনজীবী সমিতির উন্নয়ন কাজের বিরুদ্ধে নই। আমি শুধু আমার সম্পত্তি, বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *