
অবসরের পরও প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রী?
অভিযোগ ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রী-এর জন্মতারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬। সে হিসাবে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তার বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছিল তার সর্বশেষ কর্মদিবস।
তবে অবসরের সময়সীমা পার হওয়ার পরও তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি তাকে পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
৬০ বছর পূর্ণ করে অবসর নেওয়ার পর একজন ব্যক্তিকে আবার একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পদে বসানোর আইনগত ক্ষমতা এডহক কমিটি পেল কোথা থেকে?
আর যদি এটি নতুন নিয়োগ হয়ে থাকে, তাহলে—নিয়োগের অনুমোদন কোথায়?
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — ৬০ বছর পূর্ণ
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীর জন্ম ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬। অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তিনি ৬০ বছর পূর্ণ করেছেন।
এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ গুরুত্বপূর্ণ। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি সরকারি নথি হিসেবে প্রকাশিত রয়েছে।
নীতিমালার ১১.১০ নম্বর বিধান অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি বেতন-ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত সময়সীমা এবং ৬০ বছর পূর্তিতে অবসরসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের ক্ষেত্রে দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্যবস্থাও নির্ধারিত হয়েছে।
ফলে ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর পুরোনো নিয়োগের ধারাবাহিকতায় তিনি কীভাবে একই পদে বহাল থাকলেন—এটাই এখন অনুসন্ধানের বিষয়।
২১ সেপ্টেম্বরের পরের অধ্যায়
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছিল সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীর শেষ কর্মদিবস।
তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
এমনকি তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে—
আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন প্রধান শিক্ষক।
—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও, অডিও বা লিখিত সাক্ষ্য প্রয়োজন। তবে অবসর কার্যকর হওয়ার পরও তিনি যদি প্রতিষ্ঠান প্রধানের ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে প্রশ্নটি আরও গুরুতর:
অবসর-পরবর্তী সময়ে তিনি কোন লিখিত আদেশের বলে অফিস করেছেন?
২০১৩ সালে সহকারী প্রধান, ২০১৯ সালে প্রধান শিক্ষক
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রী আনুমানিক ২০১৩ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০১৯ এবং ২০১৯ থেকে ২০২৬—তার চাকরির পুরো ধারাবাহিকতার নথি এখন অনুসন্ধানের কেন্দ্রে থাকা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ২০১৯ সালের নিয়োগের ক্ষেত্রে দেখতে হবে—
- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল?
- কতজন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন?
- নিয়োগ কমিটিতে কারা ছিলেন?
- পরিচালনা কমিটির রেজুলেশন কী ছিল?
- শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছিল কি না?
- নিয়োগপত্রে কী শর্ত ছিল?
- MPO-তে অন্তর্ভুক্তির নথি কী?
- চাকরির বয়সসীমা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল?
এডহক কমিটির পুনঃনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
অবসরের পর বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। কারণ জানা গেছে, বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীকে আবার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
তবে এই পুনঃনিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৫ সালের একাধিক এডহক কমিটি অনুমোদনপত্রে বলা হয়েছে—প্রবিধান ৬৫(২) অনুযায়ী এডহক কমিটি ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করলেও, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১২ এপ্রিল ২০১১-এর স্মারকের নির্দেশনা অনুযায়ী এডহক কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সরকারি নথিতেও একই ধরনের নির্দেশনা দেখা যায়—এডহক কমিটি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারবে না।
তাহলে মমতাজ মজিদুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি সরাসরি:
এডহক কমিটি যদি সত্যিই সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীকে “নতুন করে প্রধান শিক্ষক” হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নিয়োগের আইনগত ক্ষমতা কোথা থেকে এলো?
“ম্যানেজিং কমিটির সব ক্ষমতা” মানেই কি নিয়োগের ক্ষমতা?
এখানেই রয়েছে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য।
এডহক কমিটি ম্যানেজিং কমিটির অনেক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু একই সরকারি নির্দেশনায় শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ওপর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে।
অতএব—
- “এডহক কমিটির সব ক্ষমতা আছে” — এই যুক্তি দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলা যাবে না যে
- “এডহক কমিটি অবসরপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবে।”
দুটি বিষয় আলাদা। এই পার্থক্যই পুরো ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী দিক।
২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের নতুন পদ্ধতি
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বেসরকারি MPOভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে NTRCA-এর মাধ্যমে নিয়োগ সুপারিশের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি প্রকাশ করেছে।
২০২৬ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা তালিকায় প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ওই পদ্ধতিকে পৃথক সরকারি নীতি হিসেবেও দেখানো হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন:
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অবসর-পরবর্তী একজন ব্যক্তিকে নতুন করে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে সেই নিয়োগ কি বর্তমান NTRCA-ভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতির আওতায় পড়ে?
যদি না পড়ে—কেন পড়ে না?
আর যদি পড়ে—NTRCA-এর সুপারিশ কোথায়?
সংবিধানের আলোতেও প্রশ্ন
এখানে বাংলাদেশের সংবিধানের কয়েকটি মৌলিক নীতি প্রাসঙ্গিক।
২৬ অনুচ্ছেদ
সংবিধানের ২৬(২)-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন করবে না।
২৭ অনুচ্ছেদ — আইনের দৃষ্টিতে সমতা
সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—
সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।
৩১ অনুচ্ছেদ — আইনের আশ্রয়
সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের আইনানুযায়ী এবং কেবল আইনানুযায়ী আচরণ পাওয়ার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।
৪০ অনুচ্ছেদ — আইনসঙ্গত পেশা
সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদে আইন দ্বারা আরোপিত যোগ্যতা ও সীমাবদ্ধতার অধীন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের অধিকার স্বীকৃত।
তবে স্পষ্ট থাকা দরকার—এই সাংবিধানিক ধারাগুলো নিজে সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীর নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে না। বরং কোনো নিয়োগ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যদি প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করে, তাহলে আইনানুগতার প্রশ্নটি কেন গুরুত্বপূর্ণ—সংবিধানের এসব বিধান সেই বৃহত্তর কাঠামোটি নির্দেশ করে।
আর্থিক লেনদেনের অভিযোগেও নতুন নীতিমালা
সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আরও কয়েক ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবসা;
- MPO ও খণ্ডকালীন নিয়োগকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন;
- ভাউচার সংক্রান্ত অনিয়ম;
- বই কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া;
- অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ।
এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নথি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তবে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয় “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬” প্রকাশ করেছে।
তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে বিদ্যালয়ের—
- ক্যাশবুক, ব্যাংক হিসাব, ভাউচার, অডিট রিপোর্ট;
- ক্রয় রেজিস্টার;
- বই বিতরণ বা বিক্রয় সংক্রান্ত নথি;
- নিয়োগসংক্রান্ত আর্থিক রেকর্ড — পরীক্ষা করা যেতে পারে।
বই কোম্পানির টাকা — কমিশন, নাকি বৈধ লেনদেন?
বই কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগটি সত্য হলে সেটির প্রকৃতি কী—এটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থটি কি—
- প্রতিষ্ঠানের বৈধ আয়?
- বই সরবরাহের কমিশন?
- কোনো অনুদান?
- ব্যক্তিগত অর্থ?
- নাকি অন্য কোনো খাতে গ্রহণ করা অর্থ?
এটি নির্ধারণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, রসিদ, ভাউচার ও প্রতিষ্ঠানের হিসাববই দেখা প্রয়োজন।
প্রমাণ ছাড়া একে সরাসরি দুর্নীতি বলা যাবে না।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ — প্রমাণ কোথায়?
MPO বা খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও গুরুতর। তবে সাংবাদিকতার ভাষায় অভিযোগ আর প্রমাণ এক নয়।
তাই অনুসন্ধানে খুঁজতে হবে—
- নিয়োগপ্রার্থীদের লিখিত অভিযোগ;
- টাকা দেওয়ার প্রমাণ;
- ব্যাংক লেনদেন;
- মোবাইল ব্যাংকিং রেকর্ড;
- অডিও বা ভিডিও;
- নিয়োগের সময়কার রেজুলেশন;
- নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা;
- অডিট আপত্তি।
এসব পাওয়া গেলে অভিযোগের ভিত্তি আরও শক্ত হবে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি নথি
এই অনুসন্ধানকে “অভিযোগ” থেকে “নথিভিত্তিক অনুসন্ধান” পর্যায়ে নিতে হলে নিচের ১০টি দলিল সংগ্রহ করা জরুরি:
- সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীর জন্মতারিখের সরকারি প্রমাণ।
- ২০১৩ সালের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র।
- ২০১৯ সালের প্রধান শিক্ষক নিয়োগপত্র।
- ২০১৯ সালের নিয়োগ কমিটির রেজুলেশন।
- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর অবসর বা শেষ কর্মদিবসের আদেশ।
- এডহক কমিটি গঠনের শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনপত্র।
- এডহক কমিটির যে রেজুলেশনে তাকে পুনঃনিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
- সেই পুনঃনিয়োগের নিয়োগপত্র।
- শিক্ষা বোর্ড, মন্ত্রণালয় বা NTRCA-এর অনুমোদন বা সুপারিশ—যদি থেকে থাকে।
- অবসরের পর তিনি যে সময় প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই সময়ের অফিস আদেশ, উপস্থিতি রেজিস্টার ও স্বাক্ষরিত নথি।
তদন্তের সবচেয়ে বড় ১৫টি প্রশ্ন
নিয়োগ নিয়ে
- ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৬০ বছর পূর্ণ হলে তার অবসর কার্যকর হয়েছে কি না?
- ২১ সেপ্টেম্বর কি সত্যিই শেষ কর্মদিবস?
- অবসরের পর তিনি কোন আদেশে বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন?
- এডহক কমিটি তাকে কোন পদে নিয়োগ দিয়েছে?
- নিয়োগটি স্থায়ী, অস্থায়ী, ভারপ্রাপ্ত নাকি চুক্তিভিত্তিক?
- নিয়োগের মেয়াদ কতদিন?
- কোন বিধির অধীনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?
- এডহক কমিটির নিয়োগ ক্ষমতা কি ওই পদে প্রযোজ্য?
- শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন কোথায়?
- মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হলে সেটি কোথায়?
- NTRCA-এর সুপারিশ আছে কি না?
আর্থিক বিষয়ে
- অবসরের পরও যদি MPO-ভিত্তিক বেতন-ভাতা নেওয়া হয়ে থাকে, তার ভিত্তি কী?
- বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনে বই কোম্পানির অর্থের হিসাব কোথায়?
- নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রমাণ আছে কি?
- ভাউচার ও অডিটে কোনো আপত্তি উঠেছে কি না?
এডহক কমিটির কাছেও সরাসরি প্রশ্ন
এডহক কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের কাছে প্রশ্ন হওয়া উচিত—
▪️ আপনারা কোন বিধানের অধীনে একজন ৬০ বছর পূর্ণ করা অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পুনরায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন?
▪️ নিয়োগের আগে শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি?
▪️ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে কি?
▪️ NTRCA-এর সুপারিশ আছে কি?
▪️ যদি এগুলোর কোনোটিই না থাকে, তাহলে কোন আইনি ক্ষমতায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?
▪️ নিয়োগপত্রে কোন বিধি উল্লেখ করা হয়েছে?
▪️ নিয়োগটি কতদিনের জন্য?
এই প্রশ্নগুলোর লিখিত উত্তরই হবে অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশ্ন
প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মিস্ত্রীর কাছেও সমানভাবে জানতে হবে—
- আপনার জন্মতারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ কি না?
- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কি আপনার শেষ কর্মদিবস ছিল?
- অবসরের পর আপনি কোন আদেশে দায়িত্ব পালন করেছেন?
- এডহক কমিটির নিয়োগপত্রে কোন বিধান উল্লেখ আছে?
- শিক্ষা বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে কি?
- NTRCA-এর সুপারিশ আছে কি?
- অবসরের পর আপনার বেতন বা ভাতা কোন উৎস থেকে দেওয়া হচ্ছে?
এগুলো জানা গেলে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও যুক্ত করা যাবে।
শেষ কথা: প্রশ্নটা ব্যক্তি নয়, প্রক্রিয়ার
এই অনুসন্ধানের মূল বিষয় কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়।
মূল প্রশ্ন একটাই—
একজন ব্যক্তি ৬০ বছর পূর্ণ করে অবসর নেওয়ার পর একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পদে আবার কীভাবে ফিরলেন?
যদি তার কাছে বৈধ নতুন নিয়োগের কাগজ থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা হোক।
যদি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন থাকে, সেটি প্রকাশ করা হোক।
যদি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকে, সেটিও প্রকাশ করা হোক।
যদি NTRCA-এর সুপারিশ থাকে, সেটিও দেখানো হোক।
আর যদি এসব কোনোটি না থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—
এডহক কমিটি কি তার নির্ধারিত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আবার প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসিয়েছে?
এই প্রশ্নের উত্তর কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত প্রভাব কিংবা কমিটির মৌখিক বক্তব্যে নয়—নিয়োগপত্র, রেজুলেশন, সরকারি অনুমোদন এবং প্রযোজ্য আইনের নথিতেই রয়েছে।
তাই মমতাজ মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে অবসর-পরবর্তী পুনঃনিয়োগের পুরো নথি প্রকাশের দাবি এখনই প্রাসঙ্গিক।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য