সারাবিশ্ব

সৌদির তেল বন্দর পাহারায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২১ বার সংবাদটি দেখেছে

সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী ইয়ানবুর নিরাপত্তা জোরদারে সেখানে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিকল্প রুটটি সম্প্রতি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নিল প্যারিস। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির শীর্ষ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ জানান, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে কেবল জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংঘাতে নিজেদের জড়াতে নয়।

আসন্ন শীত মৌসুমের আগে ফ্রান্সে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ চাপে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দেশে তেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয় সে লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সরকার। সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য মার্কিন ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক করে ম্যাক্রোঁ বলেন, হোয়াইট হাউস এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও বাস্তবে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা এলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ হবে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার উদাহরণ টেনে তিনি সতর্ক করেন, ফ্রান্সের ভূখণ্ডেও মস্কো একই ধরনের হামলা চালানোর ছক কষতে পারে। ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপের সমর্থন ভেঙে দিতেই মস্কো এ ধরনের ভীতি প্রদর্শন করছে উল্লেখ করে ম্যাক্রোঁ জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ইতিমধ্যে একটি জাতীয় পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে স্প্যানিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিআইএ কর্তৃক ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার সতর্কবার্তা পাওয়ার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দেন তিনি।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে এত কড়া বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধনকুবের আলিশের উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে ছাড় দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। মূলত এর ফলেই আজারবাইজানের কারাগারে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দি এক ফরাসি নাগরিককে বাকু প্রশাসন ক্ষমা করে মুক্তি দেয় বলে জানা গেছে।

সূত্র: রয়টার্স



রোহান/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *