
আজ বিশ্ব গণ্ডার দিবস
বিশ্বে টিকে থাকা পাঁচ প্রজাতির গণ্ডারই বর্তমানে নানা ধরনের হুমকির মুখে। একশৃঙ্গী, জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডার এশিয়ায় এবং সাদা ও কালো গণ্ডার আফ্রিকায় বিস্তৃত রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের কারণে এসব প্রাণীর অস্তিত্ব দিন দিন সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণ্ডারের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি হলো শিংয়ের জন্য অবৈধ শিকার। ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসায় গণ্ডারের শিংয়ের কথিত ঔষধি বা অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে—এমন বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে বিপুল অর্থের লোভে সংঘবদ্ধ চোরাশিকারিরা গণ্ডার হত্যায় জড়িয়ে পড়ছে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) লাল তালিকায় জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডারকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অন্য প্রজাতিগুলোর অবস্থাও বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।
একসময় অবিভক্ত বাংলার বিস্তীর্ণ সমতল বন ও জলাভূমিতে একশৃঙ্গী গণ্ডারের বিচরণ ছিল। তবে শিকার ও আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই বাংলাদেশ থেকে এই প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে ভারত ও নেপালে সংরক্ষণ, নজরদারি এবং আবাসস্থল ব্যবস্থাপনার ফলে একশৃঙ্গী গণ্ডারের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের আসামের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান ও পশ্চিমবঙ্গের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
গণ্ডার সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব গণ্ডার দিবস। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (ডব্লিউডব্লিউএফ)-এর উদ্যোগে দিবসটি পালনের সূচনা হয়। পরবর্তী বছর থেকে এটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থাগুলো সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আলোচনা ও সেমিনারের আয়োজন করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং গণ্ডারের বিলুপ্তি ঠেকাতে আন্তর্জাতিকভাবে চোরাশিকার ও অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ আরও জোরদার করা জরুরি।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য