জেলার খবর

পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস

প্রকাশিত :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২৩ বার সংবাদটি দেখেছে

পঞ্চগড়ে তেঁতুলিয়া উপজেলায় পাঠ্যক্রম ভিত্তিক নাট্য ভাবনায় সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সারিয়ালজোত সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয় মাঠে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা কারিগর। এই কার্যক্রমে প্রান্তিক এলাকার প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সুবিধা বঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো নিয়ে নাটক নির্মান করে এবং স্কুল মাঠেই তা প্রদর্শিত হয়। এর আগে শিক্ষার্থীদেরকে ৭ দিন ব্যাপি থিয়েটারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ৫ টি শ্রেণী থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি থিয়েটার ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয।

পাঠ্যক্রমে যুক্ত গল্প বা নাটকের মাধম্যে তাদেরকে মেডিটেশন, ব্যায়াম, উচ্চারন, সাবলিলভাবে কথা বলা, অভিনয়, গল্পপাঠ, সঙ্গীত, খাদ্যাভ্যাস, প্রকৃতি ও পরিবেশ, পজেটিভ আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরে নিজেদের মতোই তারা একটি নাটক নির্মাণ করে নিজেরাই অভিনয় করে। উদ্যোক্তারা বলছেন এই পক্রিয়া চলমান থাকবে। থিয়েটার ক্লাবের মাধ্যমে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সিলেবাস থিয়েটারের সাথে যুক্ত হবে। উদ্বোধনী দিনে সারিয়াল জোত সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের থিয়েটার ক্লাব সারিয়াল থিয়েটার মঞ্চস্থ করে নাটক বাঁশিওয়ালা। নাটকটি নির্দেশনা দেন সরকার হায়দার।

অভিনয় করেন আরুশা, সারা, আশরাফি, রোমিও, মেহেদী, সাদিকুল, জেসিকা, রিমি, জান্নাতি, মনি, রাতুল, ইমরান, সোহান, বাইজিদ, নিহাদ, হ্যাপি, সামিয়া, ইতি, ফয়সাল, সৌরভ ও মাহিম। নাটকটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন হাবিবুর রহমান (হাবিব), প্রযোজনায় ছিলেন রেজাউল ইসলাম, পোষাক ও প্রপস পরিকল্পনায় ফাহিম আহমেদ এবং সঙ্গীত পরিকল্পনা করেন রইসউদ্দিন।

কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার জানান, প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক বৈচিত্রতা উপভোগ করতে পারেনা। পাঠক্রমেই বিচিত্র সাংস্কৃতিক বিষয় রয়েছে । স্কুল সিলেবাস থিয়েটার শিক্ষার্থীরা উপভোগ করার পাশাপাশি একসাথে তাদের অভিভাবক, এলাকার সুধীজনও উপভোগ করবে। জেলা প্রশাসনের এটা একটা অনন্য উদ্যোগ । পাইলট প্রকল্প হিসেবে তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০ টি বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরে দশটি নাটক নিয়ে একটি নাট্য উৎসব হবে।

জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, থিয়েটার একটি কম্পোজিট আর্ট। এটি শুধু নিছক নাটক বা অভিনয় নয়। একজন অভিনেতাকে নানা যোগ্যতায় যোগ্য হয়ে উঠতে হয়। তাঁর খাবার, পোশাক আশাক, কথা বলা থেকে শুরু করে সবকিছুতে আর্ট কে অনুসরণ করতে হয়। তাই থিয়েটারের প্রশিক্ষণ সকল মানুষের জন্য একটি অনুসরনীয় বিষয়। অন্যদিকে এই মাধ্যমে পাঠ্যক্রমের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে প্রান্তিক শিশুদের পাঠদান করলে শিশুদের আত্নবিশ্বাস, মনস্তাত্বিক বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমাম রাজী টুলু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন ( রাজস্ব), উপজেলা প্রার্থমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রার্থমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি মকবুলার রহমান সহ সহস্রাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *