প্রধান শিরোনাম

বরিশালে আ’লীগ নেতা শিপন গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে কিশোর!

প্রকাশিত :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

দেশের বানী | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট : ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বরিশালের পরিবহন সেক্টর ও দুই প্রধান বাস টার্মিনাল ছিল মূলত দুই নেতার নিয়ন্ত্রণে। কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনালের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রূপাতলী বাস টার্মিনালের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা কাওসার হোসেন শিপন গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রক কিশোর কুমার দে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রূপাতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাওসার হোসেন শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে কিশোর কুমার দে প্রকাশ্যে নগরীতে ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে এখনও গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময়ে রূপাতলী বাস টার্মিনালের দায়িত্বে থেকে সবসময় আলোচনায় ছিলেন কাওসার হোসেন শিপন। অন্যদিকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে অনেকটা আড়ালে থেকেই কোটি কোটি টাকার অর্থ ও সম্পদের মালিক বনে যান। সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর শাসনামলে নথুল্লাবাদ বাস মালিক গ্রুপের কার্যকরী কমিটির সভাপতি মাশরেক বাবলু নামমাত্র পদে থাকলেও মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল তৎকালীন মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্না এবং কিশোর কুমার দের হাতে।

পরবর্তীতে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) মেয়র পদে আসার পর সাদিক অনুসারীদের হটিয়ে খোকন অনুসারীরা টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নিলেও চতুর কিশোর কুমার দে অলৌকিক ক্ষমতাবলে বহাল তবিয়তে রয়ে যান। তৎকালীন মেয়রের ঘনিষ্ঠ হয়ে নথুল্লাবাদের চাঁদা আদায় ও তদারকির মূল দায়িত্বে থেকে যান তিনি।

 

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার পতনের মুখে শিপন ও কিশোর উভয়ই আত্মগোপনে চলে যান। তবে কিছুদিন পরেই আওয়ামী লীগ নেতা কিশোর কুমার দে প্রকাশ্যে নগরীতে চলাফেরা শুরু করেন বলে জানান স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা।

 

এদিকে কিশোর কুমার দের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কয়েকজন নেতাকে অর্থ দিয়ে কিশোর এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া তাকে রাজনৈতিকভাবে শেল্টার দেওয়ার পাশাপাশি কিশোর যাতে গ্রেপ্তার না হন, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে মহানগর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা তদবিরও করছেন বলে সূত্রটির দাবি।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশালের তৃণমূল বিএনপির কয়েকজন কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বরিশালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপট বজায় রাখা এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা জিইয়ে রাখার পেছনে অন্যতম অর্থ জোগানদাতা ছিলেন এই শিপন ও কিশোর। প্রতিদিন বাস টার্মিনাল দুটি থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা অবৈধভাবে চাঁদা তোলা হতো। সরকার পতনের দুই বছর পার হলেও শিপন গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে, কিন্তু নথুল্লাবাদের মূল কারিগর কিশোর কুমার দে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার না করাটা চরম দুর্ভাগ্যজনক। তাই অনতিবিলম্বে কিশোর কুমার দে-কেও গ্রেফতারের জোর দাবি জানাই।

এব্যাপারে জানতে একাধিকার কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।



মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *