জেলার খবর

নালিতাবাড়ীতে চিরকুট লিখে প্রাণ দিল চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী

প্রকাশিত :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৩ বার সংবাদটি দেখেছে

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে চিরকুট লিখে ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে রিমা আক্তার (১৪) নামের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিহতের নানার বাড়ি উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রিমা একই গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা।

পারিবারিক সুত্র জানায়, ছোট সময় রিমার তিন বোন রেখে বাবা রিপন মিয়া মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর পর থেকে তিন বোনসহ মা জহুরা বেগম আন্ধারুপাড়া গ্রামে তার পিতা হবিবর রহমানের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তিন বোনের মধ্যে রিমা আক্তার দ্বিতীয়। সে আন্দারুপাড়া গ্রামের ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

এদিকে, অতি সম্প্রতি রিমার বিয়ের সমন্ধ আসছিল। কিন্তু রিমা পারিবারিক বিয়ের সিদ্ধান্তে রাজি হচ্ছিল না। সে প্রতিবেশী এক যুবককে ভালোবাসতো। এরই এক পর্যায়ে একটি চিরকুট লিখে বাড়ির টিনশেড ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

আত্মহত্যার আগে রিমা নিজ হাতে একটি চিরকুট লিখে যায়। চিরকুটে রিমা লিখে “মা তুমি আমারে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তোমার মাথা ধরে যে আমি তোওবা কাটছি। তোমার কিছু হইলে তো আমারে কেউ ছাড়বোনা। আমি মরলে কারো কি কিছু হয়তো না। মা- তুমি শুধু ভাবলা সম্পত্তির কথা। ভালো সংসার আর টাকা। কিন্তু মা-তুমি কি এক বারও ভাবছিলা আমি তারে পাইলে সুখ পাবো। হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারন তারে যে আমি ভালোবাসি। তারে ছাড়া যদি তোমরা অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতা সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম। আমারে মাফ কইরা দিও। এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তোমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও। তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না। ইতি তোমার কপাল পোড়া রিমা।”

নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহত রিমার মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। একইসাথে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *