সংবাদপত্রের পাতা থেকে

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, ধাক্কা পোশাকশিল্পেও

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৬ বার সংবাদটি দেখেছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও। বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়। অন্যদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে পাকিস্তান চালু করেছে ভর্তুকি কর্মসূচি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে বিঘ্নের কারণে এশিয়ার স্পট এলএনজি মূল্য এ সপ্তাহে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে প্রায় ৩০ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধের আগে যা ছিল প্রায় ১০ ডলার। জ্বালানি সংকটে চলতি বছর বিশ্ব প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন এলএনজি হারিয়েছে বলে জানিয়েছে শেল।

বাংলাদেশে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশের বেশি আমদানি করা এলএনজিনির্ভর। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশকে এখন তুলনামূলক বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, কমছে উৎপাদন। পোশাকশিল্পেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের চাপ।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে দেখা গেছে, আগস্টের শেষ দিক থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ৫৫ শতাংশ কারখানার ক্রয়াদেশ বাতিল বা কমেছে। আর ৭৮ শতাংশ কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের চাপ কম থাকায় একটি কারখানার বয়লার মাঝপথে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মালিককে চীন থেকে কাপড় আনতে হয়েছে। এতে উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ায় এক ক্রেতা ৫০ হাজার পিসের অর্ডার কমিয়ে ৪০ হাজারে নামিয়ে আনেন।

জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচও হচ্ছে। একটি পোশাক কারখানাকে ফরাসি ক্রেতার কাছে হুডি জ্যাকেট পাঠাতে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বিমানভাড়া দিতে হয়েছে। কারখানা সচল রাখতে অতিরিক্ত ডিজেলও কিনতে হচ্ছে।

সংকটের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য খাতেও। টাঙ্গাইলে এক পোলট্রি খামারি জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় শেডের বৈদ্যুতিক পাখা চালানো যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি মুরগি মারা যাচ্ছে।

হাসপাতালগুলোও রেহাই পাচ্ছে না। সিলেটের একটি হাসপাতালে প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। জেনারেটরের সাহায্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সচল রাখা গেলেও সাধারণ ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানেও গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *