সারাবিশ্ব

লাদেনের হিটলিস্টে ছিল ভারতসহ ৮ দেশ

প্রকাশিত :
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১১ বার সংবাদটি দেখেছে

আল-কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেন যে দেশগুলোতে একসময় হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করেছিলেন, সেই তালিকায় ভারতের নামও ছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রকাশ করা নথিতে উঠে এসেছে এ তথ্য। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হামলার ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিন লাদেন-সম্পর্কিত ৭০টির বেশি ‘প্রেসিডেনশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফ’ প্রকাশ করেছে সিআইএ। এতে ১০০রও বেশি পৃষ্ঠার নথি রয়েছে।

১৯৯৮ সালের ২৮ আগস্টের একটি প্রেসিডেনশিয়াল ব্রিফে বলা হয়েছে, বিন লাদেন ভারতসহ একাধিক দেশে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। তবে নথিটির কিছু অংশ মুছে দেয়া হয়েছে। এতে ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, মিশর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং ‘সম্ভবত’ নাইজেরিয়ার নাম রয়েছে।

‘বিন লাদেন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এখনও হুমকি’ শিরোনামের ওই নথিতে তথ্যের উৎস গোপন রাখা হয়েছে। এতে ভারতের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার তারিখ কিংবা সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযান পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

নথিতে বলা হয়, ‘উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় বিন লাদেনের সুপ্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো এই প্রতিবেদনগুলোকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেয় যে, তিনি এসব অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারেন।’

নথিতে মূল্যায়ন করা হয়, আফগানিস্তানে অবস্থানরত বিন লাদেন ও অন্য সন্ত্রাসী নেতারা দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও বেঁচে গিয়েছিলেন এবং তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ ছিল। গোষ্ঠীটি কয়েকটি শিবিরে আবার প্রশিক্ষণও শুরু করেছিল এবং অন্য কয়েকটি ক্যাম্প স্থানান্তরের প্রক্রিয়াও চলছিল।

যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে আল-কায়েদার ক্যাম্পগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও আরও হামলা চালানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়, ‘আল-কায়েদার প্রধান অন্তত ৬০টি দেশে থাকা ব্যক্তি ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর একটি নেটওয়ার্ককে হামলা চালানোর জন্য আহ্বান জানাতে পারেন।’

সিআইএ প্রকাশিত প্রেসিডেনশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্রিফগুলোর এই সংকলন থেকে দেখা যায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে সংস্থাটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের একাধিকবার সতর্ক করেছিল। এসব নথির সময়কাল বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় থেকে শুরু হয়ে জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় পর্যন্ত বিস্তৃত।

সিআইএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এসব ব্রিফ প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়গুলোর আগের বছরগুলো এবং ঘটনার পরের দিন থেকে আমেরিকার সবচেয়ে সংবেদনশীল গোয়েন্দা প্রকাশনার বিষয়ে অভূতপূর্ব স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে।’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করেন। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে এবং এতে বিখ্যাত দুই আকাশচুম্বী ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ে।

তৃতীয় একটি বিমান পেন্টাগনে আঘাত হানে। আর চতুর্থ বিমানটি হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস ভবনকে লক্ষ্য করে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে বিমানটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।



রোহান/সা.এ.

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *