জেলার খবর

গাইবান্ধায় মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও হামলার ঘটনায় পরিবার আটক

প্রকাশিত :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৪ বার সংবাদটি দেখেছে

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ‘দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও পল্লী চিকিৎসক হাছান আলীর বিরুদ্ধে মেয়েকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মাদরাসায় হামলা চালিয়েছে এক সাবেক ছাত্রীর পরিবার। এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক ওই ছাত্রীর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেয়েকে ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে ওই পরিবারটি একের পর এক নাটক সাজাচ্ছে। এর আগে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দিলেও বর্তমানে তারা ধর্ষণের অভিযোগ তুলছে। এছাড়া মেয়েটি এর আগে সব ঘটনা মিথ্যা বলে ভিডিও বক্তব্য দিলেও বর্তমানে বক্তব্য পরিবর্তন করায় স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সত্য প্রমাণিত হওয়ার আগে যেন পুলিশ কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়।

মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে জিবু মিয়া তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাদরাসায় গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে মাদরাসা প্রাঙ্গণে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে কল করা হলে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ছাত্রীর বাবা-মাসহ সংশ্লিষ্টদের থানায় নিয়ে যায়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত এক মাস আগে স্থানীয় আসাদুল নামের এক চিকিৎসকের যোগসাজশে জিবু মিয়া হাছান আলীর বিরুদ্ধে ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়ার গুজব ছড়ায় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম জানান, জিবু মিয়া মোস্তা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়ের বিয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা না পেয়েই তারা পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েটিকে তার পরিবার মারধর ও জোরজবরদস্তি করে মিথ্যা বলতে বাধ্য করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা হাছান আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটিকে তিনি সন্তানের মতো দেখতেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া বলেন, তিনি তার মেয়ের বিষয়ে বিচার চান এবং মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল জানান, ৯৯৯ নম্বরের কল পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ থাকায় তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *