এক্সক্লুসিভ

দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: মূল কারণ ও ঝুঁকি

প্রকাশিত :
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
/
১৮ বার সংবাদটি দেখেছে

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ঘন ঘন ভুমিকম্পের ঘটনা দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কম্পের পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর স্থলভাগের নিচে অবস্থিত বৃহৎ টেকটোনিক প্লেটগুলো ক্রমাগত নড়াচড়া করে। প্লেটের সংযোগ বা ফাটলে যে চাপ তৈরি হয়, তা মাঝে মাঝে ভূমিকম্পের আকারে প্রকাশ পায়। দেশের কিছু অংশে এই ফাটল সক্রিয় থাকায় স্থানীয়ভাবে কম্প অনুভূত হয়।

ভূ-গর্ভস্থ চাপ ও জলস্তর পরিবর্তন
ভূ-গর্ভে জলস্তর ও চাপের পরিবর্তনও ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের জন্য দায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জল উত্তোলন বা খনি থেকে পদার্থ আহরণ করলে ভূ-গর্ভস্থ চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে মাটি কম্পন করতে পারে।

প্রাকৃতিক ভূ-ফাটল সক্রিয়তা
দেশের কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক ভূ-ফাটল সক্রিয় থাকে। এই ফাটলের নড়াচড়া ও চাপের পরিবর্তনই ক্ষুদ্র বা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের এলাকায় ভবন নির্মাণ বা ভৌত অবকাঠামো স্থাপন করার আগে জরুরি মানদণ্ড মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

মানবসৃষ্ট কার্যক্রম
নির্মাণ কাজ, ভূ-গর্ভস্থ ড্রিলিং, খনি বা গ্যাস-তেল উত্তোলন এবং অন্যান্য শিল্প কর্মকাণ্ডও ক্ষুদ্র ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক ফাটলের সঙ্গে মানবসৃষ্ট চাপের সংযোগ ঘটলে কম্পের মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

সম্ভাব্য ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা জানান, বেশিরভাগ কম্পন ক্ষুদ্র এবং তুচ্ছ হওয়ায় সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম। তবে ঘন ঘন কম্পন দীর্ঘ সময় ধরে হলে মাটির স্থিতিস্থাপকতা কমে যেতে পারে এবং পুরনো বা দুর্বল ভবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সতর্কতা ও পরামর্শ
ভূমিকম্প হলে নিরাপদ স্থান যেমন দরজা, শক্ত কাঠের টেবিল বা উন্মুক্ত জায়গায় থাকা জরুরি।
প্রাকৃতিক ফাটল এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণের সময় ভূ-কম্প সহনশীল ডিজাইন অবলম্বন করা উচিত।
স্থানীয় প্রশাসনকে ভূমিকম্প মনিটরিং ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে।
সাধারণ মানুষকে ভূমিকম্প সচেতনতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান করা হচ্ছে।

ভূতত্ত্ববিদরা সতর্ক করে বলছেন, ঘন ঘন ক্ষুদ্র কম্পন অবশ্যই স্বাভাবিক, তবে যদি তার সঙ্গে মাটি ফাটল বা শক্তিশালী কম্পন যুক্ত হয়, তাহলে তা বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বসূচনা হতে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি ও মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *