সারাবিশ্ব

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরে বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
/
৩ বার সংবাদটি দেখেছে

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় ০১টা ০৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ৯৩ সেন্টে পৌঁছায়।

এর আগে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮ ডলার ৬৬ সেন্ট বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ১০৪ ডলার ৭৭ সেন্টে লেনদেন শেষ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হামলার খবর তেলের দামে নতুন করে ঝুঁকিজনিত প্রিমিয়াম যুক্ত করেছে। বাজার যখন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছিল, তখন সামরিক তৎপরতার এ খবর পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিয়েছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের কয়েক দিনের আলোচনা শেষ হলেও প্রস্তাবে পরিবর্তন এসেছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

অন্যদিকে, সোমবার ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আগে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির বাড়তি দাম নিয়ে চাপে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি শান্তি আলোচনার জন্য সরকারকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনার অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা চলতে পারে।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *