
সেতু ভেঙে মাঝে গর্ত, ৩ বছরেও হয়নি মেরামত দূর্ভোগে চার গ্রামের মানুষ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ফুলকুমার নদ। মানিককাজী গ্রামে ওই নদের উপরে ৪টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৯৯১ সালে একটি সরু সেতু নির্মাণ করা হয়। ৩ বছর আগে সেতুটি ভেঙে মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনেও সেতুটি মেরামত না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার সদর ইউনিয়নের মানিককাজী গ্রামের ফুলকুমার নদের ওপর ১৯৯০-৯১ সালে প্রায় ৩৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও আড়াই মিটার প্রস্থের একটি সরু সেতু নির্মাণ করা হয়। ৩ বছর আগে সেতুটির মাঝখানে ভেঙে বড় এক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে গেছে দুই পাশের রেলিংও। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এই সড়ক সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী চার গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী ঝুঁকি নিয়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও যানবাহন পারাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপাকে পড়েছে তারা।
উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী এই সড়ক ব্যবহার করে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের মানিককাজি, পূর্ব ও পশ্চিম ভোটহাট এবং জয়মনিরহাট ইউনিয়নের বাউসমারি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার লোক। এ ছাড়া এই সেতুর ওপর দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী প্রতিদিন চলাচল করে। সেতুটি ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় লোকজন। উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে একসময় ‘সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও চলাচল নিষেধ’ লিখে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দিলেও এখন আর সেই সাইনবোর্ডেরও অস্তিত্ব নেই। জনসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে হাঁটাচলা করতে পারলেও যানবাহন পারাপার না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান গনি জানান, এই এলাকার মানুষের রোগ ব্যাধি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স দরকার পরে কিন্তু এই সেতু দিয়ে এম্বুলেন্স আসতে পারেনা। রোগী নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের বিপদে পড়তে হয়।
মানিককাজি ঘাটপার বাজারের ব্যবসায়ী হাসমত আলী ও মাইদুল ইসলাম জানান, সেতুটিতে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় কনজিউমার প্রডাক্টের কোনো কোম্পানির গাড়ি বাজারে ঢুকতে পারছে না। তাই উপজেলা সদর থেকে ব্যাবসায়িক মালপত্র কিনতে হচ্ছে। তাতে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতারা বাড়তি দামে পণ্য কিনতে চাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন একটি সেতু দ্রুত নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান , ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দফতর অনেক আগেই জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে যেতে পারে। উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানালেন, চাহিদা পত্রে সেতুটির প্রস্তাব এক নম্বরে আছে। সেতুর সয়েল টেস্ট সমপন্ন হয়েছে। এরইমধ্যে সেতুটির প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য