জেলার খবর

ইনানীতে গ্যাস নির্গমনের ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
/
৬ বার সংবাদটি দেখেছে

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির গভীর থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন লাগার ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ও অন্যান্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ মিটার এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী, নিষিদ্ধ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থানের পাশাপাশি আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই কিংবা লাইটার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গ্যাসের সংস্পর্শে এসে অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে, এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের আদেশে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর সকাল সাতটার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনানী ছোট খাল ব্রিজসংলগ্ন একটি বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের কাজ চলছিল। এ সময় মাটির প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ প্রবেশ করানোর পর গ্যাস নির্গত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করে।

ঘটনাস্থলে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি কারিগরি দল সেখানে পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে। দলটি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দেয়।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগুনের উৎস ও আশপাশের এলাকাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা জোনে ভাগ করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার এলাকায় প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে উপজেলা প্রশাসন।

এর আগে বাপেক্সের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে উচ্চমাত্রার হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি এবং গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেটের আলামত পাওয়ার কথা জানানো হয়। ফলে ইনানীর ভূগর্ভে প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাব্য মজুত নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাসের প্রকৃতি ও মজুত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্যাস নির্গমন ও আগুনের উৎসস্থল ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষের প্রতি সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *