জেলার খবর

নাগরপুরে দলিল জালিয়াতি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
/
৭ বার সংবাদটি দেখেছে

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালিকাভুক্ত দলিল লেখক (সনদ নং- ৭৯৩) মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে জমির নামজারি করিয়ে দেওয়ার নামে দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ধুবড়িয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ মো. মাছেম আলী (৭০) জানান, তিনি তার ৪২ শতাংশ জমির নামজারি করানোর জন্য মতিয়ার রহমানের শরণাপন্ন হন। কাগজপত্র দেখার পর মতিয়ার রহমান দাবি করেন, দলিলের ‘জমির শ্রেণি’ ও ‘খতিয়ান নম্বরে’ ভুল রয়েছে। এগুলো সংশোধন করে নামজারি সম্পন্ন করতে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। মাছেম আলীর অভিযোগ, তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই টাকা নেওয়া হয় এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়।

পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি নামজারি আবেদন (মামলা নং: ১০৩১(IX-I)২০২৬-২৭, আবেদন নং: ১৬১৮৮৪২১) জমা দেওয়া হয়। ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ভুক্তভোগীকে মূল দলিলসহ তলব করলে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর মূল দলিলে খতিয়ান নম্বর ১০৪৫ এবং জমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ উল্লেখ থাকলেও অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনে খতিয়ান নম্বর ১০৮৮ এবং শ্রেণি ‘কান্দা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের সঙ্গে মূল দলিলের তথ্যের কোনো মিল নেই। আবেদনটিতে দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় এটি নামঞ্জুরের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মাছেম আলী বলেন, অসুস্থতার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় তিনি দলিল বুঝিয়ে দিতে পারছেন না। মতিয়ার চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন। এছাড়া ধুবড়িয়া গ্রামের অপর এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, তার ১৬ শতাংশ জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সাবেক এই চেয়ারম্যান সাড়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মো. মতিয়ার রহমান টাকা নেওয়া এবং দলিল জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *