লাইফ স্টাইল

রাতের ভোজে ভেটকির দোপিঁয়াজি, স্বাদে হার মানাবে রেস্তরাঁকেও

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

দুর্গাপূজার ছুটির আনন্দে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন থাকবে না, তা কি হয়! বিশেষ করে দুপুরে জমিয়ে মাংস খাওয়ার পর রাতের খাবারে অনেকেই চান একটু ভিন্ন স্বাদ। চিরচেনা মাছের ঝোল কিংবা ঝাল থেকে বেরিয়ে অতিথিদের চমকে দিতে এবার পাতে রাখতে পারেন ভেটকির দোপিঁয়াজি। পেঁয়াজের মিষ্টি স্বাদ, মসলার মনমাতানো সুবাস আর ভেটকি মাছের নরম টুকরোর মেলবন্ধনে এই পদ হয়ে উঠতে পারে উৎসবের রাতের অন্যতম আকর্ষণ।

ভেটকির দোপিঁয়াজির বিশেষত্ব হলো, এতে পেঁয়াজ ব্যবহার করা হয় দুইভাবে—বাটা ও কুচি করে। ফলে ঝোলের স্বাদ যেমন গভীর হয়, তেমনি পেঁয়াজের টুকরো খাবারে যোগ করে আলাদা স্বাদ ও গঠন। খুব বেশি উপকরণ কিংবা দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা সাধারণ মসলা দিয়েই তৈরি করা যায় রেস্তরাঁর স্বাদের এই সুস্বাদু পদ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ভেটকির দোপিঁয়াজি তৈরির সহজ রেসিপি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • ভেটকি মাছ: ৫০০–৬০০ গ্রাম (মাঝারি টুকরো)
    – পেঁয়াজ কুচি: ২টি মাঝারি আকারের
    – পেঁয়াজবাটা: ১টি পেঁয়াজের সমপরিমাণ
    – রসুনবাটা: ২ টেবিল চামচ
    – আদাবাটা: আধা চা-চামচ
    – হলুদগুঁড়া: ১ চা-চামচ
    – মরিচগুঁড়া: ১ চা-চামচ
    – গোলমরিচের গুঁড়া: আধা চা-চামচ
    – গরম মসলার গুঁড়া: ১ চা-চামচ
    – টমেটো: ২–৩টি (কুচি করা)
    – টক দই: ২ টেবিল চামচ
    – কাঁচা মরিচ: ২–৩টি
    – ধনেপাতা কুচি: ১ টেবিল চামচ
    – পুদিনাপাতা কুচি: ১ টেবিল চামচ
    – রান্নার তেল: ৪ টেবিল চামচ
    – গরম পানি: প্রয়োজনমতো (সর্বোচ্চ দেড় কাপ)
    – লবণ ও চিনি: স্বাদমতো

ছবি: প্রতিকী ছবি

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথম ধাপ: মাছ প্রস্তুত করুন

প্রথমে ভেটকি মাছ ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর মাছের টুকরোগুলোতে সামান্য লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। কড়াইয়ে তেল গরম করে মাছগুলো হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন। খুব বেশি ভাজবেন না, এতে মাছ শক্ত হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ: মসলার ভিত্তি তৈরি করুন

একই কড়াইয়ে অবশিষ্ট তেল গরম করে পেঁয়াজবাটা, আদাবাটা ও রসুনবাটা দিয়ে মাঝারি আঁচে কষাতে থাকুন। মসলার কাঁচা গন্ধ চলে গেলে তাতে হলুদ, মরিচগুঁড়া ও গোলমরিচের গুঁড়া যোগ করুন।

এরপর ফেটিয়ে রাখা টক দই দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন। দই যেন কেটে না যায়, সে জন্য এ সময় আঁচ কমিয়ে রাখুন।

তৃতীয় ধাপ: টমেটো ও পেঁয়াজের স্বাদ যোগ করুন

মসলার সঙ্গে টমেটো কুচি, সামান্য চিনি ও অল্প গরম পানি দিয়ে ধীরে ধীরে কষাতে থাকুন। টমেটো নরম হয়ে মসলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে বুঝবেন রান্নার মূল প্রস্তুতি শেষ।

এবার ভেজে রাখা মাছের টুকরোগুলো সাবধানে মসলার মধ্যে বসিয়ে দিন। ওপর থেকে ছড়িয়ে দিন পেঁয়াজ কুচি। খেয়াল রাখবেন, মাছ যেন ভেঙে না যায়।

চতুর্থ ধাপ: অল্প আঁচে রান্না করুন

মাছ ও পেঁয়াজের সঙ্গে মসলা ভালোভাবে মিশিয়ে প্রয়োজনমতো সামান্য গরম পানি দিন। ঢেকে কম আঁচে কয়েক মিনিট রান্না করুন। পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে লবণ ও মিষ্টির স্বাদ ঠিক করে নিন।

মনে রাখবেন, দোপিঁয়াজির ঝোল হবে ঘন ও মাখামাখা। তাই অতিরিক্ত পানি ব্যবহার না করাই ভালো।

শেষ ধাপ: সুবাসে আনুন বিশেষ চমক

মাছ সেদ্ধ হয়ে মসলা ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে গরম মসলার গুঁড়া, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা ছড়িয়ে দিন। এরপর চুলা বন্ধ করে দুই মিনিট ঢেকে রাখুন। এতে মসলার সুবাস আরও সুন্দরভাবে মিশে যাবে।

পরিবেশনে থাকুক উৎসবের আমেজ

গরম ভাত, বাসন্তী পোলাও কিংবা ঘিয়ে ভাজা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন ভেটকির দোপিঁয়াজি। চাইলে পরিবেশনের সময় ওপর থেকে সামান্য পেঁয়াজের বেরেস্তা ও ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে খাবারের সৌন্দর্য ও স্বাদ দুটোই বাড়বে।

রান্নার ছোট্ট টিপস: ভেটকি মাছের মাংস তুলনামূলক নরম। তাই রান্নার সময় বারবার নাড়াচাড়া না করে কড়াই হালকা ঝাঁকিয়ে মসলা মিশিয়ে নিন। আর পেঁয়াজের স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখতে কুচি করা পেঁয়াজ একেবারে শুরুতে না দিয়ে রান্নার শেষের দিকে যোগ করুন।

দুপুরে মাংসের জমজমাট আয়োজনের পর রাতের খাবারে এমন সুস্বাদু মাছের পদ অতিথিদের মন জয় করতে পারে অনায়াসেই। অল্প আয়োজনেই উৎসবের ভোজে এনে দিতে পারে একেবারে অন্যরকম স্বাদ।



বাপ্পি/সা.এ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *