জেলার খবর

ব্রাহ্মণপাড়ায় অসহায় দুই শিশুর পাশে দাঁড়ালেন পুলিশ সুপার

প্রকাশিত :
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
/
৯ বার সংবাদটি দেখেছে

আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়।। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সড়কের পাশে মায়ের রেখে যাওয়া অসহায় দুই কন্যাশিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। তাঁর নির্দেশনায় মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) শিশু দুটির হাতে শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়েছে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের বাবা নূর মোহাম্মদ নাছির আলমের হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নূর মোহাম্মদ নাছির আলমের সঙ্গে জেসমিন আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে ইসরাত (৮) ও রোজা মনি (১৮ মাস) নামে দুই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন জেসমিন। সম্প্রতি তিনি অন্যত্র বিয়ে করেন।

গত রোববার দুপুরে দুই মেয়েকে নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে আসেন জেসমিন আক্তার। পরে মুঠোফোনে সাবেক স্বামী নূর মোহাম্মদ নাছির আলমকে বাজারে আসার কথা জানিয়ে শিশু দুটিকে নিয়ে যেতে বলেন। তবে ওই সময় নাছির আলম কুমিল্লা শহরে অটোরিকশা চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে দুই শিশুকে বাজারের সড়কের পাশে রেখে চলে যান জেসমিন।

মাকে দেখতে না পেয়ে বাজারের বিভিন্ন স্থানে কান্নাকাটি ও ছোটাছুটি করতে থাকে শিশু দুটি। তাদের এমন অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে শিশু দুটির চাচি শিরিনা বেগম বাজারে এসে তাদের শনাক্ত করেন এবং নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে বাবা নাছির আলম শিশু দুটিকে নিজের হেফাজতে নেন।

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিশু দুটির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তাঁর নির্দেশনায় মঙ্গলবার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে শিশু দুটির জন্য শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সুপার শিশু দুটির প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তাঁর নির্দেশনায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে শিশু দুটির জন্য শিশুখাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *