জেলার খবর

আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপে মার্চেন্ডাইজার জামালের মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

প্রকাশিত :
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৩ বার সংবাদটি দেখেছে

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় শারমিন গ্রুপের বহুতল ভবন থেকে পড়ে মো. জামাল উদ্দিন খান শিহাব (৩৯) নামে এক সিনিয়র মার্চেন্ডাইজারের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি থেকে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাকে হত্যা দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

নিহত জামাল উদ্দিন গাজীপুর সদর উপজেলার বুরুলিয়া ডুয়েট এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি শারমিন গ্রুপের ডিভিশন-৩-এ সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, কারখানার অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জেরে জামালকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের খালাতো ভাই ফখরুল হাসান সোহাগ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে জানানো হয়, জামাল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা গেছেন। তাঁর দাবি, জামালের ছোট সন্তান রয়েছে এবং তিনি প্রতিষ্ঠিত কর্মকর্তা ছিলেন। এ কারণে তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি পরিবারের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন। কারখানার ভেতরের লোকজন ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নিহতের স্ত্রী নাহার আকৃতার বৃষ্টি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে জামাল তাঁকে কারখানায় কিছুটা ঝামেলা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। বুধবার সকালেও তাঁদের কথা হয়। ওই সময় জামাল মালিকের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বৃষ্টি আরও জানান, তিনি জামালকে অফিসে যেতে নিষেধ করেছিলেন। তবে অফিসে না গেলে তাঁকে ফাঁসানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন জামাল। পরে অফিসে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। প্রায় দুই ঘণ্টা পর একজন ফোন ধরে জামাল অসুস্থ বলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানান। পরে তাঁরা তাঁর মৃত্যুর খবর পান।

ঘটনাস্থলে প্রাথমিক সুরতহাল করেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম। তিনি জানান, নিহতের হাত-পা ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে। ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছে বলেও জানান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে জামালকে লাফ দিতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের প্রধান ফটকে গেলে নিরাপত্তা ইনচার্জ নজরুল ও নিরাপত্তাকর্মী আল আমিন সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *