জেলার খবর

সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী , সন্ধান চায় পরিবার

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকা থেকে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১০ অক্টোবর মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। সন্তানদের সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন অভিভাবকেরা। অন্যদিকে, তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। রেশমি আক্তারের বাবা শহিদুল ইসলাম এবং মা রোজিনা আক্তার। তাদের বাড়ি ইয়াংছার বনফুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তানিয়া সুলতানার বাবা আবুল হাশেম ও মা কুলছুমা বেগম। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ইয়াংছা-বধুরঝিরি মুসলিম পাড়ায় তাদের বাড়ি। অন্যদিকে, হালিমাতুচ্ছ সাদিয়ার বাবা বেলাল উদ্দিন এবং মা শারমিন আক্তার। তাদের বাড়িও ইয়াংছা-বধুরঝিরি পাড়ায়। তিন পরিবারের সদস্যরা এখন মেয়েদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে তিন কিশোরী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। রেশমি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তার সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা শুনে অন্য দুই কিশোরীও তার সঙ্গে বের হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাদের কয়েকজন সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠজন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা ইয়াংছা বাজারে যায়। সেখান থেকে একটি টমটমে করে চকরিয়ার দিকে রওনা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িচালক তাদের চকরিয়া যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা যায়।

কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জামিল আহমেদ জানান, নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান শুরু করে। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তিনি অভিভাবকদের তদন্তের স্বার্থে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অনুসন্ধানের অগ্রগতি, সম্ভাব্য অবস্থান কিংবা নিখোঁজের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে পুলিশের তদন্তের ফলাফল সামনে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, গত মাসের শেষ দিক থেকে ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *