
পানির নিচে ইয়াবার ‘গোপন বাহন’, এক চালানে ৩০ লাখ আনার পরিকল্পনা
নাফ নদীর পানির নিচ দিয়ে টেনে আনা হচ্ছে কাঠের তৈরি বিশেষ ক্যারিয়ার। বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে নদী পেরিয়ে সেটি ঢুকছে বাংলাদেশের ভেতরে। চোরাকারবারিদের ব্যবহার করা এই ‘ডুবন্ত কনটেইনারে’ একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা পাচারের এমন একটি কৌশলের সন্ধান পেয়েছে বিজিবি। সোমবার রাতে উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালী বিওপির পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১টি গুলি এবং পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফে বিজিবির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। এ সময় ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ায় মনিরের ঘেরে একটি মাচাংঘরের পাশে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। টহল দলের সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে পালানোর চেষ্টা করেন তারা। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে ওই স্থান ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, অস্ত্র-গুলিসহ পাচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই রাতে বালুখালী বিওপির পৃথক অভিযানে আরও একজনকে আটক করা হয়।
উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মুঠোফোন, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও একটি বৈদ্যুতিক মোটর।
বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে কাঠের ক্যারিয়ারটি নাফ নদী পেরিয়ে পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে টেনে আনা হতো। খালের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে ক্যারিয়ারটি এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা ছিল। এ জন্য স্টিলের তার ও কপিকল ব্যবহার করতেন পাচারকারীরা।
বিজিবির ভাষ্য, ক্যারিয়ারটির ধারণক্ষমতা এমন যে একবারে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব। তবে সোমবারের অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কারণে মাদক কারবারিরা পাচারের প্রচলিত পদ্ধতি বদলে নতুন কৌশল নিচ্ছে। পানির নিচ দিয়ে ক্যারিয়ার টেনে আনার এই ব্যবস্থা সীমান্তে মাদক পাচারের নতুন ধরনের কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলায় নৌকার সাহায্যে পানির নিচে ডুবিয়ে রশি দিয়ে টেনে নেওয়ার সময় ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল বলে জানায় বিজিবি।
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর উখিয়া ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে আটক হয়েছেন ২২৮ জন।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, চোরাকারবারিরা যতই অভিনব কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, মাদক পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সাজু/নিএ
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য