রাজনীতি

কী নির্মম রসিকতা!: হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশিত :
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৬ বার সংবাদটি দেখেছে

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ায় সরকারের জবাবদিহি চেয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ ঘটনায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

পোস্টে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন। অথচ পরীক্ষার আগের রাত থেকেই ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ে। আর আজ? ৩ লাখ ক্যান্ডিডেট যখন ১০০ টা পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকলো, পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫ মিনিট আগে ঘোষণা হলো, ‘‘প্রশ্নফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় এক্সাম ক্যানসেল।’’ কী নির্মম রসিকতা!

এ ঘটনাকে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নির্মম পরিহাস হিসেবে উল্লেখ করে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, প্রায় তিন লাখ তরুণের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে। পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অর্থ জনগণের এবং এ ব্যয়ের জন্যও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

চাকরিপ্রার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে এনসিপির এ নেতা বলেন, পরীক্ষাটি স্থগিত হওয়ায় তরুণেরা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। পরে আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় এসে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে তাঁদের। ভবিষ্যতে আবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে কি না, সেই আশঙ্কাও তাঁদের মধ্যে কাজ করবে।

নিয়োগব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বছরের পর বছর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রমের অভাবে চাকরিপ্রার্থীরা অপেক্ষায় থাকেন। অথচ পরীক্ষা আয়োজন করা হলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। বেকার তরুণদের অর্থ ও আবেগ নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০০টির বেশি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণের দেশে সরকারি চাকরির সীমিত সুযোগের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকারি চাকরির নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থের বিনিময়ে পদ বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা যাচ্ছে না।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় কোনো আমলা, সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিন্ডিকেট নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এ ধরনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তা নির্মূলের পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *