বরিশাল

বরিশালে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন ঠেকাতে যা করলেন নারী

প্রকাশিত :
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
/
৩৩ বার সংবাদটি দেখেছে

দক্ষিণ টিভি ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশালের বাবুগঞ্জে চোখের পলকে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। জরুরিভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। সব হারানোর শঙ্কায় কেউ ছুটছেন জনপ্রতিনিধিদের কাছে, কেউ আবার সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছেন।

সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সন্ধ্যা নদীপাড়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয় মো. হাসান প্যাদার স্ত্রী নাজমা বেগম কলাপাতায় পান-সুপারি ও কলা সন্ধ্যা নদীতে ভাসিয়ে দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন।

নাজমা বেগম যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি স্বপ্নে দেখেছি— নদীর তীরে বসে আল্লাহর কাছে মাফ চাইলে এবং কলাপাতায় পান-সুপারি ও কলা ভাসিয়ে প্রার্থনা করলে আল্লাহ আমাদের নদীভাঙন থেকে রক্ষা করবেন।’

তার এই বিশ্বাসকে অনেকে কাল্পনিক হিসেবে দেখলেও নদীর ভাঙন থামাতে স্থানীয়দের আকুতি ও উদ্বেগে কোনো কমতি নেই।

স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন হেমায়েত বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে দেহেরগতি ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে বসতবাড়ি, গাছপালা ও কয়েক একর ফসলি জমি। ভাঙনের মুখে রয়েছে ইদিলকাঠী থেকে বাহেরচর এলাকার সংযোগ সড়কটি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মোল্লা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, চোখে এখন আর জল আসে না। চোখের পলকে বসতঘর, বাপ-দাদার কবরস্থান নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নিজের কবর দেওয়ার জায়গাটুকুও হয়তো আর অবশিষ্ট থাকবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে ইদিলকাঠী-বাহেরচর সংযোগ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান শুভ বলেন, ইতোমধ্যে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ—এই তিনটি নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *