সারাবিশ্ব

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল সোনার দাম

প্রকাশিত :
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৩ বার সংবাদটি দেখেছে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির দুর্বল তথ্যের কারণে অক্টোবরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমেছে। এতে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। এর প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে স্পট সোনার দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৮ দশমিক ১৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য সোনার ফিউচার চুক্তির দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশটিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমেছে। একই সঙ্গে আগের দুই মাসের কর্মসংস্থানের হিসাবও বড় ধরনের সংশোধন করে কমানো হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়েছে। এর ফলে সোনার দামে কিছুটা সমর্থন তৈরি হয়েছে। তবে অক্টোবরে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে ফেড তা বাড়াতে পারে বলে বাজারে ধারণা রয়েছে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন মাত্র ২২ শতাংশ। এক সপ্তাহ আগেও এই সম্ভাবনা ছিল ৬৪ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো ৮৭ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত মাসে ফেড সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করে। তিন বছরের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতেও নজর

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও সোনার বাজারে প্রভাব ফেলছে। সৌদি আরব-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার রোববার জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করছে তারা।

টিম ওয়াটারার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সোনার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেলের দাম, সুদের হার এবং ফেডের সিদ্ধান্ত ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়ায় এবং জি-৭ দেশগুলো বাজারে তেল ছাড়ায় সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম কমেছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যান্য ধাতুর দামও বেড়েছে

সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬১ দশমিক ৪০ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭০৮ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই হারে প্যালাডিয়ামের দামও বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৭৫ দশমিক ৪ ডলার।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *