সারাবিশ্ব

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
/
১৩ বার সংবাদটি দেখেছে

ইসলামের অন্যতম পবিত্র নগরী মদিনার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ওই বিতরণ কেন্দ্রটিতে চালানো হামলার জন্য ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। তবে এই অভিযোগ সরাসরি ভিত্তিহীন দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে হুথি গোষ্ঠী।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার মদিনার একটি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে ওই হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লেও বিকল্প ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। সৌদি জোটের দাবি, হামলার পর ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এই আক্রমণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে হুথি বিদ্রোহীরাই সরাসরি জড়িত। তাদের ভাষ্যমতে, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলার যে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র চলছে, এটি তারই অংশ; যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত হানার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবার এক প্রতিবেদনে এই অভিযোগকে পুরোপুরি ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, পূর্বে মক্কায় হামলার যে ভুয়া অভিযোগ সৌদি আরব তুলেছিল, তার কোনো প্রমাণ হাজির করতে না পেরে সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন মদিনার ঘটনার নাটক সাজানো হচ্ছে।

এদিকে সীমান্তে পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সৌদি জোট জানিয়েছে, তারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের আকাশ থেকে হুথিদের ছোড়া চারটি ড্রোন এবং খামিস মুশাইত ও জাজানের আকাশসীমা থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

সৌদি সীমানার বাইরে ইয়েমেনের অভ্যন্তরেও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে কয়েক ডজন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সামরিক সূত্রের বরাতে সেনাবাহিনী জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় তাইজের পশ্চিমে জাবাল হাবাশি, মাকবানাহ এবং দক্ষিণ-পূর্বের আল-আকরুদ ফ্রন্টে হুথিরা প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ চালালে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এতে কেবল আল-আকরুদ যুদ্ধক্ষেত্রেই অন্তত ৩০ হুথি সদস্য নিহত এবং বহু যোদ্ধা আহত হয়। এছাড়া তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টে সরকারি বাহিনীর চালানো ছয়টি নিখুঁত বিমান হামলায় হুথিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের মানবিক সংকট নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটির বাস্তুচ্যুত শিবির ব্যবস্থাপনা ইউনিটের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত ২৯ হাজার ৫১৯টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৬ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এদের একটি বড় অংশই আশ্রয় নিয়েছে সংঘাতকবলিত তাইজ প্রদেশে, যার সংখ্যা ৯৭ হাজারের বেশি। এছাড়া লাহিজ প্রদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও ৫০ হাজারের বেশি বাস্তুহারা মানুষ।



সালাউদ্দিন/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *