জেলার খবর

রাণীশংকৈলে মায়ের অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের কারাদণ্ড

প্রকাশিত :
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
/
১০ বার সংবাদটি দেখেছে

নিজের গর্ভের সন্তানের হাতেই দিনের পর দিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন এক অসহায় মা। মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি। এক মা কতটা অসহায় হলে নিজের ছেলেকে আইনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন, এই ঘটনা তারই করুণ প্রমাণ।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজার এলাকায়। মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মাদকাসক্ত ছেলে মো. জেমস ওরফে মিলন (৩৫) কে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজিবর রহমান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মিলন নেকমরদ বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

জানা যায়, মিলন দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনে আসক্ত। নেশার টাকা না পেলেই বাবা-মাকে গালাগাল ও মারধর করতেন। বিশেষ করে মা ফাতেমা খাতুনের কাছে টাকা চেয়ে না পেলেই নির্যাতন চালাতেন। নিরুপায় হয়ে ফাতেমা খাতুন ছেলের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মিলনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মা ফাতেমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেটার জন্য আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিলাম। কোনোভাবেই আর সামলাতে পারছিলাম না। তাই বাধ্য হয়ে আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। ও যদি ভালো হয়ে ফিরে আসে, তাহলেই আমাদের শান্তি।”

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবর রহমান বলেন, “মাদকের কারণে একটি পরিবার ধ্বংসের পথে যাচ্ছিল। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, “মিলন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করতো। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দণ্ড দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছেন, শিগগিরই তাকে জেল হাজতে পাঠানো হবে।”

 



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *