
চাঁদাবাজির দায়ে চাকরিচ্যুতর পরও কোস্ট গার্ডে মিজান মাঝির পুনর্নিয়োগ, প্রশ্নের মুখে নিয়োগ প্রক্রিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদনঃ লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার এলাকায় কোস্ট গার্ডের চুক্তিভিত্তিক মাঝি নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোস্ট গার্ডে এক বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক মাঝি হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মোঃ মিজান মাঝি। অথচ এর আগে কোস্ট গার্ডের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জেলে ও আড়ৎদারদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তার নিয়োগ বাতিল করে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
জানা গেছে, মোঃ মিজান মাঝি ২০০০ সালে প্রথমবার কোস্ট গার্ডের মাঝি হিসেবে আওয়ামী লীগের তদবিরে নিয়োগ পান। সে সময় বিভিন্ন জেলে ও আড়ৎদারের কাছ থেকে কোস্ট গার্ডের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার নিয়োগ বাতিল করা হয় এবং ২৫/০৬/২০২২ তারিখে তাকে দায়িত্ব থেকে বের করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সে সময় মিজান মাঝির সঙ্গে তার দুই ভাই মিরাজ মাঝি ও রিয়াজ মাঝিও এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ করেছিলেন ভোলা কোস্ট গার্ডের এফ এস সুমন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রাম বাংলা পত্রিকাসহ একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সম্প্রতি একই আলেকজান্ডার এলাকায় কোস্ট গার্ডের মাঝি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলে প্রায় ১৩ জন আবেদন করেন। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে পুনরায় মোঃ মিজান মাঝিকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদারদের অভিযোগ, ঘুষের বিনিময়ে মিজান মাঝি পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তাদের প্রশ্ন, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে পূর্বে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছিল, তাকে পুনরায় কোন আইন বা বিধির আওতায় নিয়োগ দেওয়া হলো?
স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের আরও প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের নাম ব্যবহার করে সাধারণ জেলে ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাকে পুনরায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যুক্ত করার কারণ কী?
তাদের আশঙ্কা, অভিযোগ থাকা এমন কোনো ব্যক্তি যদি পুনরায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোস্ট গার্ডের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে মিজান মাঝির পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া, তার যোগ্যতা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা ঘুষের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদাররা।
মন্তব্য
0 টি মন্তব্য