জাতীয়

বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
১৪ বার সংবাদটি দেখেছে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিশু, নারী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের পরিকল্পনা ভাষণে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশসহ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনার একটি রূপরেখাও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র সুসংহত করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ২০ মিনিটের বেশি সময়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেননি; বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষেও কথা বলেছেন।

জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক, দ্বিপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে।

পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলে জানান মাহদী আমিন।

স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী কয়েক বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং মিডওয়াইফারি সেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠককে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশ্বশান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবারের জাতিসংঘ সফরের প্রতিটি দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।



কুশল/সাএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *