সারাবিশ্ব

জাতিসংঘে ইরান ও সমালোচকদের কড়া আক্রমণ নেতানিয়াহুর

প্রকাশিত :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
/
২২ বার সংবাদটি দেখেছে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ইসরায়েলের সমালোচক এবং মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই কয়েক ডজন কূটনীতিক অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। কেউ কেউ নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় প্রতিবাদ ও দুয়োধ্বনি দেন। এ সময় অধিবেশনের সভাপতি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

কক্ষ ত্যাগ করা প্রতিনিধিদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, যারা এখনো বেরিয়ে যাননি, তাদেরও চলে যাওয়া উচিত।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার নেওয়া ‘সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে ‘সবাই মারা যেত’।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ‘সাতটি ফ্রন্টে’ যুদ্ধ করছে। এর মধ্যে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, সিরিয়া, লেবানন, ইরান, ইয়েমেনের হুতিদের পাশাপাশি ইরাকে থাকা বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ী হব। আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সমালোচনা
ইসরায়েলের ঐতিহাসিক মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, এই দুই দেশসহ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিকতার অভিযোগ তুলছে এবং ইসরায়েলকে ঘিরে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এই যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বড় অংশীদার আমাদের আর কেউ ছিল না।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের আকাশে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। গাজা থেকে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।

মামদানিকে আক্রমণ
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিরও সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগকে অস্বীকার করে তিনি বলেন, তার দেশ সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ ছড়ানো হচ্ছে।

মামদানির উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি নিউইয়র্কে তার আগমন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে নীরব করতে চেয়েছিলেন। তবে তাকে নীরব করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জবাবে মামদানি নেতানিয়াহুর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

জাতিসংঘের বাইরে বিক্ষোভ
নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভও হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’-এর কর্মীরা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।

বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ‘গণহত্যা বন্ধ কর’ লেখা ব্যানার বহন করেন। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনও ছিলেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।

নেতানিয়াহুর ভাষণ নিয়ে আটলান্টিক কাউন্সিলের ইউরেশিয়া সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যারিয়েল কোহেন আল জাজিরাকে বলেন, ভাষণটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চেয়ে ইসরায়েলের নির্বাচনী সমাবেশে দেওয়ার জন্য বেশি উপযুক্ত ছিল। তার মতে, নেতানিয়াহু মূলত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ দর্শকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি



সাজু/নিএ

মন্তব্য

0 টি মন্তব্য
👤
মন্তব্য লোড হচ্ছে...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *